20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিভারতে গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি স্কিমে নতুন আইন, গ্যারান্টি ১০০ থেকে ১২৫ দিনে...

ভারতে গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি স্কিমে নতুন আইন, গ্যারান্টি ১০০ থেকে ১২৫ দিনে বৃদ্ধি

ভারত সরকার গত সপ্তাহে একটি নতুন আইন পাশ করে জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি স্কিমের কাঠামো পরিবর্তন করেছে, যা প্রত্যেক গ্রামীণ গৃহকে এখন বছরে সর্বোচ্চ ১২৫ দিন পর্যন্ত বেতনভুক্ত কাজের অধিকার দেবে। এই পরিবর্তনটি দেশের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

২০০৫ সালে কংগ্রেস শাসনামলে চালু হওয়া ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম (NREGS) প্রত্যেক গ্রামীণ পরিবারকে বছরে ১০০ দিন পর্যন্ত ন্যূনতম মজুরিতে ম্যানুয়াল কাজের অধিকার প্রদান করত। স্কিমের মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করা এবং মৌসুমী বেকারত্ব কমানো।

ভারতের জনসংখ্যার প্রায় ৬৫% গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে, যেখানে প্রায় অর্ধেক মানুষ কৃষিকাজে নির্ভরশীল, যদিও কৃষি দেশের মোট জিডিপির মাত্র ১৬% অংশ গঠন করে। এই প্রেক্ষাপটে কাজের গ্যারান্টি গ্রামীণ পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা জাল হিসেবে কাজ করে আসছে।

স্কিমটি শহরাঞ্চল বাদে প্রায় সব জেলা জুড়ে অযোগ্য শ্রমিকদের জন্য অযোগ্য জনসাধারণের কাজ সরবরাহ করে, যা অর্থনৈতিক ধাক্কা পেলে চাহিদা শোষণ করতে সহায়তা করে। ফলে গ্রামীণ জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণে এই কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মোট আনুমানিক ১.২৬ কোটি কর্মী মধ্যে অর্ধেকের বেশি নারী, এবং প্রায় ৪০% কর্মী শেডিউলড কাস্ট বা ট্রাইবের অন্তর্ভুক্ত, যারা দেশের সবচেয়ে দরিদ্র গোষ্ঠীর মধ্যে পড়ে। এই সমতা ভিত্তিক অংশগ্রহণ স্কিমের সামাজিক ন্যায়বিচার দিককে শক্তিশালী করে।

মোদি সরকারের শুরুর দিকে স্কিমের সমালোচনা করা হলেও, পরবর্তীতে তা সংকটময় সময়ে পুনরায় ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারীর সময়, যখন শহরের কাজ হারিয়ে গ্রামাঞ্চলে ফিরে আসা শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছিল, তখন কাজের চাহিদা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।

মহামারীর সময় স্কিমের মাধ্যমে গ্রামীণ ভোগ্যপণ্যের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে, দারিদ্র্য হ্রাস পায় এবং শিশুদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ে বলে অর্থনীতিবিদরা উল্লেখ করেন। কিছু অঞ্চলে বেসরকারি খাতের মজুরিও স্কিমের প্রভাবের ফলে উপরে উঠে এসেছে।

২০১৯ সালে স্কিমের নাম পরিবর্তন করে মহাত্মা গান্ধীর সম্মানে ‘মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট’ (MGNREGA) রাখা হয়। তবে নতুন আইনে গান্ধীর নাম সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নাম পরিবর্তনকে নিয়ে বিরোধী দলগুলো সরকারের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক নীতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে এবং স্কিমের মূল উদ্দেশ্য ক্ষুন্ন হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সরকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নামের পরিবর্তন কেবল আইনি কাঠামোর আধুনিকীকরণ এবং কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য।

নতুন আইন, সংক্ষেপে ‘G RAM G’, গ্যারান্টি দিন সংখ্যা ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন নির্ধারণ করেছে। এছাড়া, যদি কোনো কর্মীকে ১৫ দিনের মধ্যে কাজ প্রদান না করা হয়, তবে তাকে বেকারত্ব ভাতা প্রদান করা হবে, যা পূর্বের বিধান বজায় রাখে।

মূল স্কিমে কেন্দ্র সরকার শ্রমিকের মজুরি এবং অধিকাংশ উপকরণ খরচ বহন করত। নতুন আইনের অধীনে আর্থিক দায়িত্বের কাঠামো এখনও স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে পূর্বের মডেলটি বজায় রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিপক্ষের দৃষ্টিতে, গ্যারান্টি দিন বৃদ্ধি যদিও শ্রমিকের আয় বাড়াতে পারে, তবে বাস্তবায়ন ও তহবিলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না হলে স্কিমের কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে। সরকারকে তহবিলের স্বচ্ছতা এবং কাজের প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে এই আইনের কার্যকরী হওয়া এবং স্কিমের মূল নীতি বজায় রাখা দেশের গ্রামীণ দারিদ্র্য মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে স্কিমের ধারাবাহিকতা ও সম্প্রসারণের পথ নির্ধারিত হবে।

সারসংক্ষেপে, গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি স্কিমের নতুন আইন গ্যারান্টি দিন বাড়িয়ে শ্রমিকের সুরক্ষা বাড়াতে চায়, তবে নাম পরিবর্তন ও আর্থিক কাঠামোর পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। স্কিমের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের দক্ষতা এবং সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments