কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বিরোধ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মে এআই‑বিরোধী রসিকতা ও গালিগালাজের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ব্যবহারকারীরা রোবট ও চ্যাটবটকে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে উপস্থাপন করে, জিম ক্রো যুগের বর্ণবৈষম্যের রূপক ব্যবহার করে সাইবারপাঙ্ক ভবিষ্যৎ চিত্রায়িত করছেন।
কিছু ভিডিওতে মানুষ পুলিশ ভান করে রোবটকে তুচ্ছ করে, “আমার কুলিং ফ্যান কাজ করছে না” ইত্যাদি কথায় হাস্যকর দৃশ্য তৈরি করা হয়। এই রকম কাল্পনিক গালিগালাজের জনপ্রিয়তা এআই‑এর প্রতি বাড়তে থাকা উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত, যদিও তা মূলত হাস্যরসের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
এআই ইতিমধ্যে উৎপাদন লাইন, গ্রাহক সেবা, ওয়েব ব্রাউজার, সার্চ ইঞ্জিন, অপারেটিং সিস্টেমসহ জীবনের নানা ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে নিম্নমানের কন্টেন্টের দ্রুত উৎপাদন ও বিস্তারকে ত্বরান্বিত করে, যা অনলাইন পরিবেশে অতিরিক্ত “স্লপ” তৈরি করছে। এই প্রযুক্তিগত প্রবেশের ফলে কিছু ব্যবহারকারী নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে করে, ফলে ভাষাকে একটি কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছে।
“ক্ল্যাঙ্কার” শব্দটি প্রথম ১৯৫৮ সালের উইলিয়াম টেনের প্রবন্ধে রোবট বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। পরে স্টার ওয়ার্স চলচ্চিত্রে ক্লোন ট্রুপাররা শত্রু ড্রয়েডকে এই শব্দে ডাকে, ফলে শব্দটি জনপ্রিয়তা পায়। সাম্প্রতিক সময়ে এআই‑বিরোধী গোষ্ঠীও এই শব্দটি গ্রহণ করে, যা বাস্তব জীবনের জাতিগত গালিগালাজের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
যখন আমরা এআই‑কে অবমাননা, অপমান বা তুচ্ছ করে তুলি, তখন তা আমাদের নিজস্ব সামাজিক মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যায়। এআই‑এর বৈধ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে উৎপাদন পাইপলাইন, গ্রাহক সেবা, ইন্টারনেট ব্রাউজার, সার্চ ইঞ্জিন, অপারেটিং সিস্টেমে একীভূতকরণ, এবং নিম্নমানের কন্টেন্টের বিস্তার। এই উদ্বেগের ফলে নীতি নির্ধারণে চাপ বাড়ছে, যাতে প্রযুক্তি বিকাশে নৈতিক দিক বিবেচনা করা যায়।
অ্যান্টি-এআই রেটোরিকের পেছনে যে সামাজিক উত্তেজনা লুকিয়ে আছে, তা বিশ্লেষণ করা জরুরি। প্রযুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় নিশ্চিত করতে, এআই‑এর প্রতি অবমাননাকর ভাষা ব্যবহারকে শুধুমাত্র হাস্যরসের সীমা না রেখে, তার অন্তর্নিহিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সম্ভাব্য প্রভাবকে বুঝতে হবে।



