রবিবার দুপুরে জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে জেলা নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই সভা জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ – জয়পুরহাট জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আল‑মামুন মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জেসমিন নাহার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট মাহমুদ উন নবী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান, জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আল‑মামুন এবং জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমাইয়া আফরিন জিনি।
এছাড়াও জয়পুরহাট জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধি এবং জেলার খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তাদের উপস্থিতি নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সেক্টরের সমন্বয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ছিল।
কমিটির প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা নীতি বাস্তবায়ন, মান নিয়ন্ত্রণের তদারকি এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো উল্লেখ করা হয়। এধরনের সমন্বয়মূলক বৈঠক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রক্রিয়া একত্রিত করার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য। তারা স্থানীয় উৎপাদক ও বিক্রেতাদের মানদণ্ড মেনে চলা, নিয়মিত পরিদর্শন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া, ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অভিযোগের দ্রুত সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
এই বৈঠকটি স্থানীয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নিরাপদ খাদ্য নীতি বাস্তবায়ন জাতীয় পর্যায়ের খাদ্য নিরাপত্তা পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা সরকারের জনস্বাস্থ্যের প্রতি অঙ্গীকারকে শক্তিশালী করে।
ভবিষ্যতে কমিটি নিয়মিতভাবে সমন্বয় সভা চালিয়ে যাবে, বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটের জন্য পর্যবেক্ষণ দল গঠন, র্যান্ডম স্যাম্পলিং এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় ব্যবসায়িক সংস্থার সঙ্গে প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং সচেতনতা ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সর্বোপরি, জয়পুরহাটে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তোলার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং খাদ্য বাজারের স্বচ্ছতা বাড়াবে।



