ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ২১ ডিসেম্বর, রবিবার বিকেলে উত্তরা‑মিরপুর ডিওএইচএস সড়কের নাম পরিবর্তন করে ‘আহমদ ছফা সরণি’ ঘোষণা করেছে। মেট্রোরেল উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট ডিওএইচএস এমপি চেকপোস্ট পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি, দেশের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও লেখক আহমদ ছফার নামে নামকরণ করা হয়েছে। নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি ও শহরের বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তার উপস্থিতি দেখা গিয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, যিনি নামকরণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছিলেন, “আজকের দিনটি আমার জন্য বিশেষ একটি দিন। আহমদ ছফা ১৯৭১ সালের ২৮ জুলাই মুক্তিযুদ্ধের প্রথম গ্রন্থ ‘জাগ্রত বাংলাদেশ’ প্রকাশ করেন। অথচ মৃত্যুর পর তাঁকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই সড়কের নামকরণের মাধ্যমে আমরা গোটা জাতির কাছে ঘোষণা করছি, আহমদ ছফা আমাদের মধ্যেই আছেন।”
ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ নামফলক উন্মোচনের পর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “জুলাই‑পরবর্তী সময়ে আমরা ন্যারেটিভ‑বেজড গভর্ন্যান্স বা আখ্যাননির্ভর শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছি। অবকাঠামোর সঙ্গে শহরের বিভিন্ন গল্প সংযুক্ত করা দরকার, যাতে আগামী প্রজন্ম ঐ গল্পের মাধ্যমে বড় হতে পারে।” এজাজের মতে, শহরের নামকরণ প্রক্রিয়া ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডিএনসিসি আরও জানায়, শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নগরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যকে একত্রিত করার প্রচেষ্টা চালু রয়েছে। এধরনের নামকরণ কেবল স্মরণীয় ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানায় না, বরং শহরের পরিচয়কে সমৃদ্ধ করে, যা নাগরিকদের গর্বের অনুভূতি জাগায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জহিরুল ইসলাম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ঢাকা স্ট্রিম’-এর সম্পাদক গোলাম ইফতেখার মাহমুদ, ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এস এম শফিকুর রহমান এবং অঞ্চল‑৬‑এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা। সবাই একত্রে আহমদ ছফার স্মৃতিকে শহরের মানচিত্রে স্থায়ী করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
এই নামকরণ কার্যক্রমের পেছনে ডিএনসিসি কর্তৃক চালু করা ‘নামকরণ ও স্মরণ’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে, শহরের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের নাম যুক্ত করা হচ্ছে। এধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের ভৌত কাঠামোকে বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষের মতে, আহমদ ছফা সরণি নামকরণ কেবল একটি সড়কের নাম পরিবর্তন নয়; এটি দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বুদ্ধিজীবী আন্দোলনের প্রতি সম্মানসূচক পদক্ষেপ। এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে শহরের পরিকল্পনা ও উন্নয়নে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণকে অন্তর্ভুক্ত করার মডেল হিসেবে কাজ করবে।
উত্তরা‑মিরপুর ডিওএইচএস সড়কের নতুন নামকরণে স্থানীয় বাসিন্দারা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, এই নামটি শহরের পরিচয়কে সমৃদ্ধ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের বীরদের স্মরণ করিয়ে দেবে।
ডিএনসিসি ভবিষ্যতে আরও এমন নামকরণ প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেশের গৌরবময় ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। এধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নগর উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ একসাথে এগিয়ে যাবে।
সারসংক্ষেপে, উত্তরা‑মিরপুর ডিওএইচএস সড়কের ‘আহমদ ছফা সরণি’ নামকরণ ডিএনসিসি কর্তৃক শহরের ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ ও নাগরিক পরিচয় গঠনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের অবকাঠামো ও বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের সমন্বয় ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।



