বঙ্গবন্ধু জাতীয় দলের তিনজন বোলার বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশগ্রহণ করছেন, যেখানে তাদের পারফরম্যান্স নজর কাড়ছে। লিগগুলো হল অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ (BBL) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইন্ডিয়ান লিগ টি20 (ILT20)।
লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেন হোবার্ট হ্যারিকেনসের হয়ে BBL-এ ডেবিউ সিজন শুরু করেছেন এবং তার গতি ও স্পিনের সংমিশ্রণে দলের কাছে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছেন। তিনি পূর্বে পাকিস্তান সুপার লিগে লাহোর কালান্দারসের হয়ে খেলেছিলেন, তবে BBL-এ তিনটি ম্যাচে তিনটি উইকেট নিয়ে গড় ইকোনমি ৭.২০ বজায় রেখেছেন।
ইউএইতে, দ্রুতগামী পেসার মুস্তাফিজুর রহমান দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে এবং টাসকিন আহমেদ শারজাহ ওয়ারিয়রজের হয়ে খেলছেন। দুজনেরই বোলিং দক্ষতা দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সাপোর্ট করছে। টাসকিন চারটি ম্যাচে ছয়টি উইকেট নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছেন।
মুস্তাফিজুরের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে উজ্জ্বল; তিনি সাতটি ইনিংসে ১৪টি উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের উইকেট-টেকার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। গত রবিবার গালফ জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ৩-৩৪ রানে তিনি প্লেয়ার‑অফ‑দ্য‑ম্যাচের পুরস্কার জিতেছেন, যা তার ধারাবাহিকতা ও দক্ষতার প্রমাণ।
শাকিব আল হাসান, যিনি এখন আর জাতীয় দলে নেই, MI Emirates-এর হয়ে ILT20-এ অংশ নিচ্ছেন। যদিও তার ব্যাটিং ক্ষমতা পূর্বের মতো নয়, তবু তিনি বোলার হিসেবে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। একই দিন তিনি ডেজার্ট ভাইপার্সের বিরুদ্ধে ১-১৪ রানে বোলিং করে এবং ২৫ বলের মধ্যে ১৭ রান না করে অচল রয়ে প্লেয়ার‑অফ‑দ্য‑ম্যাচের স্বীকৃতি পেয়েছেন।
বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে আগ্রহ historically কম ছিল; শাকিব ও মুস্তাফিজুর ছাড়া অন্যদের প্রতি তেমন দৃষ্টি না থাকলেও, এই তিনজনের একসাথে বিভিন্ন লিগে উপস্থিতি বোলারদের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
বোলারদের এই উত্থান আন্তর্জাতিক ক্লাবের দৃষ্টিতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মূল্য বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে IPL-তে বাংলাদেশি বোলারদের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সাইনিং নিশ্চিত হয়নি।
বিগ ব্যাশ লিগে রিশাদের পারফরম্যান্স এবং ILT20-এ মুস্তাফিজুর ও টাসকিনের ধারাবাহিক উইকেট সংগ্রহ দলগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের গতি, স্পিন ও লাইন-লেংথের বৈচিত্র্য প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এই সময়ে, বাংলাদেশি বোলারদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য দেশীয় ক্রিকেটের জন্যও উদ্দীপনা জোগাচ্ছে। তরুণ বোলাররা রিশাদ ও টাসকিনের মতো উদাহরণ থেকে শিখে নিজেদের দক্ষতা উন্নত করতে পারবে।
প্রতিযোগিতার পরিসরে, রিশাদের ইকোনমি ৭.২০ যদিও উচ্চ, তবে তার উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা ও স্পিনের পরিবর্তনশীলতা তাকে দলের জন্য মূল্যবান করে তুলেছে। মুস্তাফিজুরের ১৪টি উইকেট এবং টাসকিনের ছয়টি উইকেট দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জয় এনে দিয়েছে।
ভবিষ্যতে, এই বোলারদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা যদি বজায় থাকে, তবে IPL ও অন্যান্য শীর্ষ লিগে তাদের নাম শীর্ষ তালিকায় উঠে আসতে পারে। বর্তমানে, তারা নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানচিত্রে বাংলাদেশি বোলারদের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।
সারসংক্ষেপে, রিশাদ হোসেনের BBL-এ ডেবিউ, মুস্তাফিজুর ও টাসকিনের ILT20-এ ধারাবাহিক উইকেট, এবং শাকিবের বোলার হিসেবে পুনরায় উত্থান বাংলাদেশি বোলারদের আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।



