ফোনোগ্রাফিক পারফরম্যান্স লিমিটেড (পিপিএল) ইন্ডিয়া বোম্বে হাই কোর্টে একটি বাণিজ্যিক মামলার মাধ্যমে কমেডিয়ান কপিল শর্মা এবং নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। অভিযোগের মূল বিষয় হল, শো’স দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’র তৃতীয় সিজন, যা এই বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্প্রচারিত হয়েছিল, তাতে তিনটি জনপ্রিয় গানের ব্যবহার লাইসেন্স ছাড়া করা হয়েছে।
পিপিএল ইন্ডিয়া অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এপিসোডগুলোতে ‘এম বোলেটো’ (মুন্না ভাই এমবিবিএস, ২০০৩), ‘রামা রে’ (কান্তে, ২০০২) এবং ‘সুবা হোনে না দে’ (দেসি বয়েজ, ২০১১) গানের অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই গানের অধিকারধারীদের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়ে সাউন্ডট্র্যাক ব্যবহার করা আইনের অধীনে ‘সার্বজনিক পারফরম্যান্স/কমিউনিকেশন টু দ্য পাবলিক’ হিসেবে গণ্য হয়, যার জন্য লাইসেন্স প্রয়োজন।
পিপিএল উল্লেখ করেছে যে, শোটি সরাসরি দর্শকদের সামনে রেকর্ড করা হয় এবং সেই সময়ে গানের সুর স্পষ্টভাবে শোনা যায়। রেকর্ডিং শেষ হওয়ার পর একই কন্টেন্ট নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছায়, ফলে অনুমতিহীন ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়। এই প্রক্রিয়াকে পিপিএল ‘বর্ধিত লঙ্ঘন’ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
মিড-ডে সূত্রে জানা যায়, পিপিএল ১২ ডিসেম্বর একটি বাণিজ্যিক মামলা দায়ের করে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, নভেম্বরের শুরুর দিকে পিপিএল একটি সিজ-এন্ড-ডিসস্ট পত্র পাঠিয়ে শো নির্মাতাদের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল। তবে শোয়ের দল থেকে শুধুমাত্র একটি অস্থায়ী উত্তর পাওয়া গিয়েছে, যা কোনো কার্যকরী পদক্ষেপে রূপান্তরিত হয়নি।
মামলায় পিপিএল আদালতকে কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করেছে। প্রথমত, অননুমোদিত সঙ্গীতের ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, এই ব্যবহার থেকে উৎপন্ন কোনো আয় প্রকাশ করতে এবং তা পিপিএলকে প্রদান করতে বলা হয়েছে। তৃতীয়ত, আদালতকে একটি রিসিভার নিযুক্ত করে লঙ্ঘনকারী উপকরণ জব্দের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
বোম্বে হাই কোর্টের বাণিজ্যিক বিভাগে শীঘ্রই এই বিষয়টি শুনানি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মামলার ফলাফল শো’র ভবিষ্যৎ সিজন এবং নেটফ্লিক্সের কন্টেন্ট ব্যবস্থাপনা নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই সময়ে কপিল শর্মা, নেটফ্লিক্স এবং সংশ্লিষ্ট প্রোডাকশন হাউসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার অগ্রগতি এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
বিনোদন জগতের এই ধরনের কপিরাইট বিরোধ শিল্পের সৃষ্টিকর্তা, অধিকারধারী এবং বিতরণকারী সকলের জন্য সতর্কতা স্বরূপ। ভবিষ্যতে সঙ্গীত ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং সংশ্লিষ্ট নোটিশের প্রতি দ্রুত সাড়া দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পিপিএল ইন্ডিয়া এই মামলাকে কপিরাইট রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যা শিল্পের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
বিনোদন শিল্পের অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদেরও এই ঘটনার পর্যালোচনা করে নিজেদের কন্টেন্টে সঙ্গীত ব্যবহারের নীতি পুনর্বিবেচনা করা উচিত, যাতে অনাবশ্যক আইনি জটিলতা এড়ানো যায়।
মামলার পরবর্তী ধাপ এবং আদালতের রায়ের ভিত্তিতে, শো’র সিজন ৩-এ ব্যবহৃত সঙ্গীতের পুনরায় সম্পাদনা বা পরিবর্তন করা হতে পারে, অথবা সংশ্লিষ্ট গানের অধিকারধারীদের সঙ্গে নতুন লাইসেন্স চুক্তি করা হতে পারে।
বিনোদন ও মিডিয়া ক্ষেত্রে কপিরাইট সচেতনতা বাড়াতে এই মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়াবে, যা শিল্পের সকল অংশগ্রহণকারীকে আইনি দায়িত্বের প্রতি আরও সতর্ক করবে।



