বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ রেবাবার বিকেলে রাজধানীর বার্ন ইনস্টিটিউটে ঘটিত আগুনে পুড়িয়ে এক রোগীর মৃত্যুর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটিত আগুনে হত্যা ও সহিংসতার ব্যাপক তদন্ত ও দোষীদের দৃশ্যমান শাস্তি দাবি করেন।
বার্ন ইনস্টিটিউটে অগ্নিকাণ্ডের ফলে এক রোগী পুড়ে মারা যাওয়ায় জনসাধারণের মধ্যে শোক ও ক্রোধের স্রোত প্রবাহিত হয়েছে, যা রিজভীর মন্তব্যের প্রেক্ষাপট গঠন করে।
রিজভী উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন কোণে চোরাগোপ্তা হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও প্রশ্নের স্রোত তৈরি হয়েছে, যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও শাসনের জন্য উদ্বেগের কারণ।
ওসমান হাদীসহ বহু ব্যক্তির ওপর সংঘটিত চোরাগোপ্তা হামলা ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে ঘটছে; এসব ঘটনার প্রকৃত দায়িত্বশীলদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তি প্রদান করা জনগণের মৌলিক দাবি।
রিজভী জোর দিয়ে বলেন, সরকারকে এই ধরনের অপরাধের তদন্তে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং যদি কোনো ঘাটতি দেখা দেয় তবে তা জনমতকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলবে।
সার্বিকভাবে, রিজভীর মতে, সরকারকে জনগণের সমর্থিত একটি শাসনব্যবস্থা হিসেবে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে, যাতে দোষীদের শক্তভাবে দমন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
অন্যদিকে, তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মধ্যে কিছু লোকের মধ্যে চরম রাজনৈতিক চক্রান্তের সন্দেহ উত্থাপিত হয়েছে; নির্বাচন প্রক্রিয়া বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো গোপন পরিকল্পনা থাকতে পারে, এমনকি বিদেশি শক্তি বা তাদের দেশীয় অনুসারীরা দেশের অস্থিতিশীলতা বাড়ানোর চেষ্টা করলেও তা নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ বাড়ছে।
রিজভীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, তিনি সরকারকে জনগণের সমর্থিত শাসন হিসেবে গণতান্ত্রিক নীতি মেনে চলতে এবং অপরাধীদের কঠোরভাবে শাস্তি দিতে আহ্বান জানান, যা দেশের মানুষের মৌলিক আকাঙ্ক্ষা।
এই সময়ে, বিএনপি দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন; যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (এ্যানি), স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এবং দলের অন্যান্য উচ্চপদস্থ সদস্যরা রিজভীর সঙ্গে আলোচনা করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রিজভীর এই ধরনের প্রকাশনা সরকারকে নিরাপত্তা ও শাসন ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াবে এবং আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে বিরোধী দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে।
বিএনপি ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটিত অগ্নিকাণ্ড ও চোরাগোপ্তা হামলার জন্য সরকারের কাছ থেকে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে; রিজভীর বক্তব্য এই দাবিকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।
অবশেষে, রিজভী ও অন্যান্য নেতারা জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়ে শেষ করেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।



