বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ সকালে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভারমাকে ডেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ডেকা করা হয়েছিল ঢাকা, দিল্লি, কলকাতা ও আগরতলা শহরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে। মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বচ্ছতা বজায় রাখার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সকাল প্রায় ৯:৩০ টায় পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম হাইকমিশনারকে ডেকেছেন এবং মিশনগুলোর নিরাপত্তা অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। এই আলোচনায় বিশেষ করে দিল্লি ও আগরতলার মিশনগুলোতে সুনির্দিষ্ট হুমকি উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়, হাইকমিশনারকে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
দিল্লি ও আগরতলা শহরের বাংলাদেশি কনস্যুলেটগুলোতে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কনসুলার ও ভিসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে স্থানীয় নিরাপত্তা পরিবেশের অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলা করা অন্তর্ভুক্ত। বন্ধের সময়কাল এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে পরিস্থিতি উন্নত না হওয়া পর্যন্ত সেবা পুনরায় চালু হবে না।
কলকাতায়, বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন কর্তৃক নিযুক্ত তৃতীয় পক্ষের ভিসা আবেদন কেন্দ্রেও প্রতিবাদী দলের হস্তক্ষেপের ফলে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। কেন্দ্রটি পূর্বে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার ফলে কেন্দ্রটি অবিলম্বে বন্ধ করা হয় এবং কর্মচারীদের নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়।
প্রতিবাদকারীরা ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে সমাবেশ করে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তারা ময়মনসিংহে গত সপ্তাহে গার্মেন্টস কর্মী দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনাগুলোকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রাঙ্গণে একটি নোটিশ পোস্ট করা হয়, যেখানে কনসুলার ও ভিসা সেবা ‘অপরিহার্য পরিস্থিতি’র কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে সেবার বন্ধের ফলে যে কোনো অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে। এই নোটিশটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এই ঘটনার পটভূমিতে ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনা দেখা যায়, যেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা ও শরণার্থী বিষয়ক আলোচনা চলমান। পূর্বে দু’দেশের মধ্যে সীমান্তে অস্থিরতা ও বাণিজ্যিক বিরোধের কারণে কূটনৈতিক নোটে সমান ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি উভয় দেশের কূটনৈতিক সংলাপের পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, “দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তবে কনস্যুলার সেবার বন্ধের মতো পদক্ষেপগুলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, এই ধরনের পদক্ষেপগুলো সাধারণত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংকেতও বহন করে। বিশ্লেষক বলেন, উভয় পক্ষেরই দ্রুত সমন্বয় করে সমস্যার মূল কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে দু’দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেবা পুনরায় চালু করার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অনুসরণ এবং নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সংলাপের বর্তমান পর্যায়ে নিরাপত্তা উদ্বেগকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করা প্রয়োজন। কনস্যুলার সেবার সাময়িক বন্ধ ও হাইকমিশনারের ডেকা উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সংবেদনশীলতা প্রকাশ করে। উভয় পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং স্বচ্ছ যোগাযোগই এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রমের মূল চাবিকাঠি হবে।



