রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির (বিআইসিএস) কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে জানায় যে শাখা ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে প্রকাশিত কিছু মন্তব্য সংগঠনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।
বিআইসিএস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমানের মন্তব্যে তিনি বাম, শাহবাগী, ছায়ানট ও উদীচীকে ‘তছনছ করে দিতে হবে’ – এভাবে বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জিত হবে – বলে দাবি করেন। একই সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভাইস‑প্রেসিডেন্ট ও শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান দেশের শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার বন্ধ করার আহ্বান জানান।
বিআইসিএস এই দুই মন্তব্যকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বলে স্পষ্ট করে, এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে এগুলোকে কোনো নীতি বা অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা অনিচ্ছাকৃত ‘স্লিপ অব টাং’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে। সংগঠন দাবি করে যে এই মন্তব্যগুলোকে সংগঠনের দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে প্রচার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।
বিবৃতিতে নেতারা উল্লেখ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এসব মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরকে বিতর্কের মঞ্চে আনতে চায়। তারা এ ধরনের প্রচারণা থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানান এবং দাবি করেন যে কোনো বাহ্যিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় নেই।
বিআইসিএসের প্রতিনিধিরা আরও জোর দেন, গণমাধ্যম বা কোনো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার সঙ্গে সংগঠনের কোনো সংযোগ নেই এবং এমন কোনো সহিংসতা তারা সমর্থন করে না। এই অবস্থান পূর্বে প্রকাশিত অন্যান্য বিবৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে সংগঠন তার সদস্যদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমানের মন্তব্যের পর, জাবি ক্যাম্পাসে কিছু ছাত্রগোষ্ঠী তার বক্তব্যকে সমালোচনা করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে মন্তব্যের প্রভাব নিয়ে সতর্ক করে। তবে শাখা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে এই মন্তব্যগুলো ব্যক্তিগত মতামত এবং শাখার কোনো নীতি নয়।
মোস্তাকুর রহমানের ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেইলি স্টার’ বন্ধের আহ্বানও একই রকম প্রতিক্রিয়া পায়। কিছু মিডিয়া বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, যদি এমন দাবি সংগঠনের আনুষ্ঠানিক নীতি হিসেবে গৃহীত হয়, তবে তা সংবাদস্বাধীনতার ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে বিআইসিএসের দৃষ্টিকোণ থেকে এই আহ্বানকে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভাইস‑প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের পর, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায় যে কোনো ছাত্র সংগঠনকে হুমকি বা সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত করা হবে না এবং সব ধরনের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিআইসিএসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মতে, এই ধরনের বিতর্কের পেছনে স্বার্থপর গোষ্ঠীর কৌশলগত পরিকল্পনা রয়েছে, যা সংগঠনের সুনাম নষ্ট করতে চায়। তারা সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীকে আহ্বান জানায়, যাতে এই ধরনের প্রচারণা থেকে দূরে থাকা যায় এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা যায়।
বৈধভাবে সংগঠনের অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি, নেতারা ভবিষ্যতে কোনো অনুরূপ মন্তব্যের ক্ষেত্রে দ্রুত স্পষ্টীকরণ প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা উল্লেখ করেন, যদি কোনো শাখা বা সদস্যের বক্তব্য সংগঠনের নীতি বিরোধী হয়, তবে তা সংশোধন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়িত্বশীল করা হবে।
এই ঘটনার পর, দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে বিআইসিএসের এই স্পষ্টীকরণ ভবিষ্যতে মিডিয়া ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। যদি সংগঠন তার সদস্যদের ব্যক্তিগত মন্তব্যকে সংগঠনের নীতি থেকে আলাদা করে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে, তবে তা মিডিয়ার সঙ্গে তার সংঘাতের মাত্রা কমাতে পারে। তবে একই সঙ্গে, শাখা স্তরে প্রকাশিত মতামতগুলোকে নিয়ন্ত্রণের জন্য অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও জাবি শাখার নেতাদের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে সংগঠন ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে অস্বীকার করেছে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা মিডিয়া আক্রমণের সঙ্গে তার কোনো সংযোগ নেই বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে সংগঠন এই ধরনের বিতর্ক এড়াতে অভ্যন্তরীণ নীতি ও শৃঙ্খলা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছে।



