ঢাকার মগবাজারে আল‑ফালাহ মিলনায়তে রবিবার অনুষ্ঠিত শোক সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার জাতির হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি জানাজে উপস্থিত প্রধান উপদেষ্টার বিচার সংক্রান্ত স্পষ্ট মন্তব্যের অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং শোকের মুহূর্তে নিরাপত্তা ও সরকারের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন।
সমাবেশটি শ্রীমতী শরিফ ওসমান বিন হাদিরের শহীদত্বের স্মরণে আয়োজন করা হয়, যেখানে উপস্থিত ভক্ত ও পার্টির কর্মীরা প্রার্থনা ও দোয়া পাঠ করেন। পরওয়ার এই অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যের মাধ্যমে শোকের পাশাপাশি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণও তুলে ধরেন।
পরওয়ারের মতে, জুলাই মাসে গৃহীত যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি এখন প্রশ্নের মুখে। তিনি উল্লেখ করেন যে হাদিরের গুলিবিদ্ধ হওয়া কোনো একক ঘটনা নয়, বরং একটি সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ। এ ধরনের পরিকল্পনা ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেন।
সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি তার সমালোচনা বিশেষভাবে গুলির ছয় ঘণ্টা পরে সীমান্ত সিলগালা করার সিদ্ধান্তের দিকে নির্দেশিত। পরওয়ার জোর দিয়ে বলেন, গুলির পরপরই সীমান্ত বন্ধ করা কেন করা হয়নি, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা নির্দেশ করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গোয়েন্দা সংস্থার অভ্যন্তরে কিছু গোষ্ঠী—যাদের তিনি ফ্যাসিস্ট ও আধিপত্যবাদী হিসেবে বর্ণনা করেন—কিলারকে পালানোর সুযোগ দিয়েছে।
এই মন্তব্যের পটভূমিতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ছে। প্রধান উপদেষ্টার স্পষ্ট মন্তব্যের অনুপস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে পার্টির নেতাদের সমালোচনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
পরওয়ারের বক্তব্যের ফলে জামায়াতের সমর্থক ও অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সরকারকে জবাবদিহি করতে চাপ বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তিনি সরকারের প্রতি দাবি করেন যে, ভবিষ্যতে এমন কোনো পরিকল্পনা রোধে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের দ্রুত তদন্তে আনতে হবে।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদিরের পরিবার ও সমবয়সীরা এই সমাবেশে শোক প্রকাশের পাশাপাশি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ শেয়ার করেন। তারা সরকারের কাছ থেকে দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গত তদন্তের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
জাতীয় পর্যায়ে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করেছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত দুর্বলতা এবং বিচার সংক্রান্ত স্পষ্টতা না থাকলে জনমত আরও অসন্তোষের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
পরওয়ারের মন্তব্যের পর, বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোও সরকারকে নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করতে এবং গোয়েন্দা সংস্থার কাঠামোতে স্বচ্ছতা আনতে আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদিরের জানাজা এবং পরওয়ারের বক্তব্য দেশের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত আলোচনার নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা রাজনৈতিক পরিবেশে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।



