মেক্সিকোর নৌবাহিনীর একটি ছোট চিকিৎসা বিমান যুক্তরাষ্ট্রের গালভেস্টন উপকূলে ধসে গিয়ে অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই দুর্ঘটনা ২৪ ডিসেম্বর রাত ১৮:৪৬ GMT-এ মেক্সিকোর ইউকাটান রাজ্যের মেরিদা থেকে রওনা হওয়া বিমানটি গালভেস্টন বে’র উপরে ২১:০১ GMT-এ শেষ রেকর্ড হওয়ার পর ঘটেছে।
বিমানটি একটি চিকিৎসা রোগী এবং মোট সাতজনকে বহন করছিল; এর মধ্যে চারজন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা এবং চারজন বেসামরিক, যার মধ্যে একটি শিশুও অন্তর্ভুক্ত। দুর্ঘটনার পর দুইজন বেঁচে গেছেন, আর একটি ব্যক্তি এখনও অজানা। মেক্সিকোর সামরিক বাহিনীর একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চারজন নৌবাহিনীর সদস্য এবং বেসামরিকদের মধ্যে একজন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
মেক্সিকোর নৌবাহিনী এই ঘটনাকে “একটি দুর্ঘটনা” হিসেবে উল্লেখ করে গালভেস্টনের দিকে অবতরণের সময় ঘটেছে বলে জানিয়েছে, তবে কারণ সম্পর্কে কোনো বিশদ প্রদান করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের লুক বেকার পেটি অফিসার উল্লেখ করেন যে, অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, তবে যাত্রীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
বিমানটি মিচু ও মাউ ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি চিকিৎসা মিশনে ছিল, যা গালভেস্টনের শ্রিনার্স চিলড্রেন হাসপাতালের জন্য গুরুতর পোড়া রোগী শিশুদের জরুরি পরিবহন সেবা প্রদান করে। ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে উল্লেখ আছে যে, এই মিশনটি মেক্সিকোর নৌবাহিনীর সমর্থনে পরিচালিত হয়।
দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অফ পাবলিক সিকিউরিটি (DPS) টুইটারে জানিয়েছে যে, NTSB-র একটি মুখপাত্র ঘটনাটি সম্পর্কে সচেতন এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গালভেস্টন কাউন্টি শেরিফের অফিসের ডাইভ টিম, ক্রাইম সীন ইউনিট, ড্রোন ইউনিট এবং প্যাট্রোল টিমও ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গালভেস্টন উপকূলে ঘন কুয়াশা দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতি দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে কিনা তা এখনও তদন্তের বিষয়।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ঘটনা মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন মাত্রা উন্মোচন করেছে। দু’দেশের সামরিক ও বেসামরিক সংস্থাগুলি জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য সীমান্ত পারাপার মিশন চালিয়ে যাচ্ছে, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ধরনের মিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এখন প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত সমন্বয় দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, তবে বিমান নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোর অনুসরণ না করলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, উভয় দেশের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মধ্যে তথ্য শেয়ারিং এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া প্রোটোকল শক্তিশালী করা জরুরি।
মেক্সিকোর সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র গালভেস্টন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো পরিবারগুলোর প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে, এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যুক্তরাষ্ট্রের কনসুলেটও এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সমর্থন প্রদান করার ইচ্ছা জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে অনুমান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। তবে বর্তমান তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, মানবিক মিশন চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় বাড়ানো এই ধরনের শোকজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।



