অস্ট্রেলিয়ার প্রধান দ্রুতগতি বলারাত্নিক প্যাট কুমিন্স, ৩২ বছর বয়সী, মেলবোর্নের এমসিজি এবং সিডনির এসসিজিতে বাকি থাকা দুইটি অ্যাশেস টেস্টে খেলতে পারবে না। অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে সিরিজে ৩-০ অগ্রগতি নিয়ে এগিয়ে আছে, ফলে শেষ দুই ম্যাচে তার বিশ্রাম নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অস্ট্রেলিয়ার বলিং দলে একটি বড় ফাঁক তৈরি হবে।
কুমিন্স প্রথম দুই টেস্টে ব্যাক স্ট্রেস ইনজুরির কারণে অনুপস্থিত ছিলেন, তবে অডিলেডে তৃতীয় টেস্টে পুনরুদ্ধার শেষে অংশগ্রহণ করেন। তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহের কঠোর শারীরিক থেরাপি ও মেডিকেল পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করেছিল। অডিলেডের ম্যাচের পরের সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের শারীরিক অবস্থা ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
অ্যাশেস সিরিজের বর্তমান স্কোর ৩-০ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে, যা সিরিজের ফলাফলকে প্রায় নিশ্চিত করে। এই প্রেক্ষাপটে কোচিং স্টাফ কুমিন্সকে শেষ দুই টেস্টে না পাঠিয়ে তার দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দিতে সিদ্ধান্ত নেয়। তাই, তার অনুপস্থিতি কেবল শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য নয়, দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার দল এখন দুই নতুন খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। দ্রুতগতি বোলার ঝি রিচার্ডসন এবং অফ-স্পিনার টড মারফি এই দুইজনকে বক্সিং ডে টেস্টের জন্য স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়েছে। তাদের যোগদানের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার বলিং ইউনিটে নতুন গতিশীলতা ও বিকল্প তৈরি হবে।
ঝি রিচার্ডসন, যিনি গত কয়েক মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার দ্রুতগতি দলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, এখন প্রধান বোলার হিসেবে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। টড মারফি, অফ-স্পিনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, টেস্ট ম্যাচে স্পিনের বিকল্প সরবরাহ করবে। দুজনের সংযোজন কুমিন্সের অনুপস্থিতিতে দলের সামগ্রিক বলিং ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
বক্সিং ডে টেস্টটি মেলবোর্নের এমসিজিতে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অস্ট্রেলিয়া ঘরে ঘরে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। শেষ টেস্টটি সিডনির এসসিজিতে নির্ধারিত, যা সিরিজের সমাপ্তি চিহ্নিত করবে। উভয় ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার দল কুমিন্সের অভাব সত্ত্বেও জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখবে।
কুমিন্সের অনুপস্থিতি দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনে। দ্রুতগতি বোলারদের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে এবং স্পিনারদের ব্যবহার বাড়াতে হবে। কোচিং স্টাফ এই পরিবর্তনগুলোকে দলীয় সমন্বয় ও মাঠের পরিস্থিতি অনুযায়ী সামঞ্জস্য করবে।
অস্ট্রেলিয়ার দল এখন পর্যন্ত সিরিজে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ স্কোর তৈরি করেছে এবং ব্যাটিং দিক থেকে কোনো বড় সমস্যার মুখোমুখি হয়নি। তবে দ্রুতগতি বোলারদের ঘাটতি ব্যাটিং লাইনআপের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই, ব্যাটসম্যানদের দ্রুতগতি বোলারদের পরিবর্তে স্পিনারদের মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিতে হবে।
কুমিন্সের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তিনি ভবিষ্যৎ সিরিজে ফিরে আসার জন্য সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ার মেডিক্যাল টিম তার শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তার স্বাস্থ্যের সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত হওয়ার পরই তিনি আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসবেন।
সারসংক্ষেপে, প্যাট কুমিন্সের শেষ দুই অ্যাশেস টেস্টে অনুপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার বলিং দলে একটি বড় পরিবর্তন আনবে, তবে নতুন সংযোজনের মাধ্যমে দলটি সমন্বয় বজায় রাখবে। সিরিজের ফলাফল ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নির্ধারিত, এবং বাকি দুই ম্যাচে দলটি জয় নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত। কুমিন্সের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখন অগ্রাধিকার, যা অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের ভিত্তি গড়ে তুলবে।



