মেক্সিকোর নৌবাহিনীর একটি বিমান টেক্সাসের গ্যালভেস্টন উপকূলে ধসে পাঁচজনের মৃত্যু ঘটায়, দুইজন বেঁচে গেছেন এবং একজন এখনও অদৃশ্য। বিমানটি মানবিক চিকিৎসা স্থানান্তরের জন্য মেরিদা, ইউকাটান থেকে রওনা হয়ে গ্যালভেস্টন বে’র কাছে অবতরণে বিপর্যস্ত হয়। মেক্সিকো নৌবাহিনীর গোপনীয়তা অনুযায়ী মোট আটজন যাত্রী ছিল, যার মধ্যে শিশুদের তীব্র দাহের চিকিৎসা নিতে নিয়ে যাওয়া রোগীও অন্তর্ভুক্ত।
মেক্সিকো নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধসে যাওয়া বিমানে পাঁচজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, দুইজনের আঘাত হালকা এবং তারা উদ্ধারকেন্দ্রে স্থানান্তরিত হয়েছে। অবশিষ্ট একজন যাত্রী এখনও অদৃশ্য, যার সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
এই বিশেষায়িত চিকিৎসা পরিবহন মিশনটি মেক্সিকোর একটি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হয়, যা গুরুতর দাহজনিত শারীরিক ক্ষতি ভোগ করা শিশুদের যত্নে নিবেদিত। ফাউন্ডেশনটি রোগীদের দ্রুত সেবা প্রদান ও পুনর্বাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অনুসন্ধান করে, এবং এই ধরনের মানবিক উদ্যোগে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফ্লাইট রাডার তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি স্থানীয় সময় 00:46 (GMT 18:46) মেরিদা থেকে রওনা হয় এবং শেষবার 21:01 GMT সময় গ্যালভেস্টন বে’র উপরে, শোলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকট রেকর্ড করা হয়। বিমানটি গ্যালভেস্টনের দিকে নেভিগেট করার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধসে পড়ে বলে অনুমান করা হচ্ছে, তবে সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও তদন্তাধীন।
যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং মৃতদেহ পুনরুদ্ধার, বেঁচে থাকা যাত্রীদের চিকিৎসা ও অনুপস্থিত ব্যক্তির সন্ধানে সমন্বিত অপারেশন চালায়। অনুসন্ধান দলগুলো গ্যালভেস্টন বে’র জলে সোনার রড, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বিস্তৃত অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে, এবং এই দুর্ঘটনা উভয় দেশের সমন্বিত প্রতিক্রিয়া প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের মানবিক মিশনে দু’দেশের সমন্বয় ও সমর্থন ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করা হবে।
একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, সামুদ্রিক ও বায়ু পরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি না করলে মানবিক মিশনের ঝুঁকি বাড়তে পারে, এবং উভয় দেশের নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম আধুনিকায়ন জরুরি।
গত বছরেও মেক্সিকোর নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার একই অঞ্চলে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দুইজনের মৃত্যু ঘটেছিল, যা নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। এই ধারাবাহিক ঘটনা উভয় দেশের সামরিক ও বেসামরিক সংস্থার মধ্যে সমন্বিত নিরাপত্তা মানদণ্ডের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
মেক্সিকো নৌবাহিনী বর্তমানে দুর্ঘটনার কারণ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে এবং ফলাফলের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া পুনরায় মূল্যায়ন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডও অনুসন্ধান সমাপ্তির পর জাহাজ ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নির্দেশিকা আপডেট করার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
এই দুঃখজনক ঘটনা মানবিক মিশনের ঝুঁকি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়, এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে উভয় দেশের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।



