22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন যুদ্ধজাহাজের শ্রেণি ঘোষণা, নিজের নামে নামকরণ

ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন যুদ্ধজাহাজের শ্রেণি ঘোষণা, নিজের নামে নামকরণ

মার‑আ‑লাগোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার নতুন যুদ্ধজাহাজের শ্রেণি প্রকাশ করেন, যা তার নিজের নামে রাখা হবে। এই ঘোষণা দুইটি প্রাথমিক জাহাজের নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করে, তবে ভবিষ্যতে সংখ্যা বাড়তে পারে।

প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলান। তাদের পাশে পরিকল্পিত জাহাজের ডিজাইন ও প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য বড় স্ক্রিনে ছবি দেখানো হয়।

ট্রাম্প‑ক্লাসের জাহাজগুলোকে “সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক পৃষ্ঠভূমি যুদ্ধ জাহাজ” এবং “দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ব্যাটলশিপ” বলা হয়েছে। প্রথমে দুইটি জাহাজ নির্মাণের কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে আরও বেশী জাহাজ যুক্ত করা হতে পারে।

প্রতিটি জাহাজের ওজন ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ টন পর্যন্ত হতে পারে এবং এতে মিসাইল, গুলিবিদ্ধ অস্ত্রের পাশাপাশি লেজার ও হাইপারসনিক মিসাইলের মতো উন্নয়নশীল প্রযুক্তি সংযোজিত হবে। অস্ত্রশস্ত্রের বৈচিত্র্যকে আধুনিক যুদ্ধের চাহিদা পূরণে ডিজাইন করা হয়েছে।

ট্রাম্পের মতে, এই জাহাজগুলো পারমাণবিক ক্ষমতা ধারণ করতে সক্ষম হবে, বিশেষত সমুদ্র‑থেকে‑লঞ্চ করা পারমাণবিক ক্রুজ মিসাইল বহন করার সক্ষমতা থাকবে। এ ধরনের ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর কৌশলগত ভারসাম্যকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।

বর্তমান মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ও ক্রুজার থেকে এই জাহাজগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে বড়, তবে ওজনের দিক থেকে ১৯৯০-এর দশকে অবসর নেওয়া আইওয়া‑ক্লাস ব্যাটলশিপের চেয়ে সামান্য কম। আইওয়া‑ক্লাসের তুলনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও অস্ত্রশস্ত্রের সংযোজন এটিকে ভিন্ন রূপ দেবে।

ট্রাম্প নিজে ডিজাইন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন, কারণ তিনি নিজেকে “অত্যন্ত নান্দনিক ব্যক্তি” বলে উল্লেখ করেন। তিনি নৌবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা বলেন, যাতে জাহাজের চেহারা ও কার্যক্ষমতা উভয়ই তার প্রত্যাশা পূরণ করে।

চীনের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে এই প্রকল্পকে উল্লেখ করা এড়িয়ে, ট্রাম্প বলেন, “এটি সবার জন্য একটি প্রতিক্রিয়া, চীনের জন্য নয়। আমরা চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখি।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে জাহাজগুলোকে কোনো একক দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং সামগ্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলার জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

পেন্টাগনের প্রধান হেগসেথ এবং নৌবাহিনীর সচিব ফেলানও জাহাজের কৌশলগত গুরুত্ব ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, নতুন জাহাজগুলো নৌবাহিনীর বহুমুখী মিশন সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সময়ে নৌবাহিনী আরেকটি নতুন জাহাজের শ্রেণি, FF(X) নামের ফ্রিগেটের পরিকল্পনা প্রকাশ করে। এই ফ্রিগেটগুলো বিদ্যমান হেলিকপ্টার নির্মাতা HII-এর ডিজাইন ভিত্তিক এবং বড় জাহাজের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

একজন বসন্তের মতো নামকরণ প্রথা অনুসারে, বর্তমান প্রেসিডেন্টের নাম দিয়ে নতুন যুদ্ধজাহাজের শ্রেণি রাখা অস্বাভাবিক বলে গণ্য হয়। সাধারণত এমন সম্মান প্রাক্তন রাষ্ট্রনায়ক বা উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের দেওয়া হয়। তাই এই সিদ্ধান্তকে কিছু বিশ্লেষক ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাবের দিক থেকে পর্যবেক্ষণ করবেন।

পরবর্তী ধাপে, নৌবাহিনী প্রকল্পের বিস্তারিত নকশা চূড়ান্ত করে নির্মাণের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করবে এবং প্রথম জাহাজের শিপইয়িংয়ের সময়সূচি নির্ধারণ করবে। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অংশগ্রহণের ফলে নকশা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত পরিবর্তন আসতে পারে, যা ভবিষ্যৎ নৌবাহিনীর গঠনকে প্রভাবিত করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments