22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইসি সানাউল্লাহ নির্বাচন‑পূর্ব নিরাপত্তা কঠোর করবেন, যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু

ইসি সানাউল্লাহ নির্বাচন‑পূর্ব নিরাপত্তা কঠোর করবেন, যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু

রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি জরুরি বৈঠকে নির্বাচন‑পূর্ব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের প্রধান বিষয় ছিল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য যৌথ বাহিনীর অভিযান চালু করা।

বৈঠকটি দুপুরের খাবারের পর নির্বাচন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিইসি, উপ-কমিশনার এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। একই দিনে, কমিশনের সদস্যরা সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে আলাদা একটি সভা করেন, যেখানে নিরাপত্তা সমন্বয় ও সমর্থন নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকের পর, নির্বাচন কমিশনের প্রধান কর্মকর্তা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, উপস্থিত সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন যে, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধে লিপ্তদের কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যারা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, মানুষকে হত্যা করতে চায় বা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে চায়, তাদের প্রতি কোনো মানবিকতা দেখানো হবে না।

সানাউল্লাহের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হবে যাতে তারা দ্রুত ও কার্যকরভাবে অপরাধীদের মোকাবেলা করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কোনো কাজ কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে এবং এর জন্য মাঠ পর্যায়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান অবিলম্বে শুরু হবে।

যৌথ বাহিনীর কাজের মধ্যে অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান ও উদ্ধার, অপরাধী দখল এবং দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সানাউল্লাহ জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।

বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার অফিসে ঘটিত ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই ঘটনার পর, নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সানাউল্লাহের বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ বিশেষভাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল দিক থেকে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়ে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা রক্ষা করা হবে।

এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে, নির্বাচন কমিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যৌথ বাহিনীর কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও সমর্থন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা বলছেন, সামরিক, নৌ ও বিমান বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়া হবে।

বৈঠকের শেষে, সানাউল্লাহ উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানান যে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার চালাবে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা ভাঙচুরে অংশ নেবে না।

এই নির্দেশনা অনুসরণে, নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা দল মোতায়েন করা হবে এবং সম্ভাব্য হুমকি সনাক্ত করার জন্য নজরদারি বাড়ানো হবে। এছাড়া, ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর নিরাপত্তা নীতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।

সামগ্রিকভাবে, সানাউল্লাহ এবং সিইসির নেতৃত্বে গৃহীত এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments