20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রাক্তন জুন্তা বন্দী কিয়াও কিয়াও হ্তুয়ে সু সু কির সিটে প্রতিদ্বন্দ্বী

প্রাক্তন জুন্তা বন্দী কিয়াও কিয়াও হ্তুয়ে সু সু কির সিটে প্রতিদ্বন্দ্বী

মিয়ানমার সামরিক শাসন কর্তৃক পরিচালিত নির্বাচনের প্রথম রাউন্ড রবিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে; এ রাউন্ডে ৬০ বছর বয়সী কিয়াও কিয়াও হ্তুয়ে, যিনি একসময় জুন্তা শাসনের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিবাদকারীরূপে কারাবন্দি ছিলেন, দেশের সর্বাধিক পরিচিত রাজনৈতিক বন্দী আং সান সু সু কির পূর্ব সিটে প্রার্থী হিসেবে নাম নিবন্ধন করেছেন।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি কুপে সু সু কির সরকার উচ্ছেদ করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে; পরবর্তীতে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফলকে ‘ভ্রান্ত’ বলে ঘোষণা করে তার দল ভেঙে দেয় এবং দেশকে গৃহযুদ্ধের মুখে ফেলে। এই ঘটনাগুলোর পর সামরিক শাসন নতুন ভোটের সময়সূচি প্রকাশ করে, যা গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এটিকে সামরিক শাসনের পুনঃব্র্যান্ডিং হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠী এই ভোটকে স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা থেকে বঞ্চিত বলে সমালোচনা করেছে এবং জুন্তা শাসনের সমালোচনামূলক মন্তব্যকে দশ বছরের পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তি দিতে পারে এমন কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের খবর জানিয়েছে।

কিয়াও কিয়াও হ্তুয়ে ১৯৮৮ সালের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন; সেই সময় তিনি সু সু কির সঙ্গে সরাসরি কাজ করতেন এবং পূর্বের সামরিক শাসক নে উইনের বিরোধিতা করতেন। সামরিক বাহিনীর গুলিবর্ষণে প্রায় ৩,০০০ জনের মৃত্যু ঘটার পর, হ্তুয়ে প্রথমবারের মতো গ্রেফতার হন এবং পরবর্তী বছরগুলোতে মোট প্রায় পনেরো বছর কারাগারে কাটাতে বাধ্য হন।

প্রার্থীর পরিচিতি তার বন্ধুবান্ধব ও পরিবারে ‘মার্কি’ নামে চলে; এই ডাকনামটি তার স্বাভাবিক স্বভাব ও রাজনৈতিক দৃঢ়তার প্রতিফলন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের পর পুরো দেশ স্বর্ণে আচ্ছাদিত হবে এমন কোনো আশাবাদী প্রত্যাশা নেই; বরং দেশের স্থিতিশীলতা ফিরে এলে ধীরে ধীরে নতুন সুযোগের দরজা খুলবে, এটাই তার বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি।

মার্কি আরও বলেন, সু সু কির গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে কাওহমু অঞ্চলের মানুষ রাজনীতির প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েছে; তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি এখানে রাজনৈতিক আলোচনা প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে এবং জনগণকে আবার সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন।

কাওহমু, যেটি সু সু কির পূর্ব সিট, এখন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র; এই সিটে প্রার্থী হিসেবে হ্তুয়ের অংশগ্রহণ তার জন্যই নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের জন্যও একটি সংকেত বহন করে। যদি তিনি জয়লাভ করেন, তবে এটি দেখাবে যে প্রাক্তন প্রতিবাদকারীরা সামরিক শাসনের কাঠামোর মধ্যে কাজ করে পরিবর্তনের সুযোগ খুঁজতে প্রস্তুত।

অন্যদিকে, সামরিক শাসন এই ভোটকে তার শাসনকে বৈধতা প্রদান করার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে; ফলাফল যাই হোক না কেন, জুন্তা শাসনের আন্তর্জাতিক চাপ কমাতে অথবা বাড়াতে এই নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে।

প্রার্থীর ক্যাম্পেইন দল স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছে; তারা আশাবাদী যে ভোটের পর দেশের অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নত হবে এবং রাজনৈতিক সচেতনতা পুনরায় জাগ্রত হবে।

সামরিক শাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভোটের ফলাফল নিয়ে সম্ভাব্য বিরোধের কারণে নির্বাচনের পরপরই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মনোযোগের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এই নির্বাচন মিয়ানমারের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে; জুন্তা শাসনের দাবি করা গণতান্ত্রিক রূপান্তর বাস্তবায়িত হবে কিনা, তা ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল।

কিয়াও কিয়াও হ্তুয়ের প্রার্থীতা এবং তার অতীতের রাজনৈতিক সংগ্রাম মিয়ানমারের জটিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, তবে একই সঙ্গে সামরিক শাসনের কঠোর নীতি ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে দেশের গণতান্ত্রিক পথ কতটা পরিষ্কার হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments