অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে চলমান অ্যাশেজ সিরিজে ডেসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) নিয়ে পুনরাবৃত্তি হওয়া ত্রুটি এবং বিতর্কের মুখে অস্ট্রেলিয়ার দ্রুতগতি পেসার মাইকেল স্টার্ক আইসিসি-কে ব্যয়ের দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। ডিআরএসের দুটি প্রধান প্রযুক্তি—রিয়েল-টাইম স্নিকোমিটার (RTS) এবং আল্ট্রাএজ—বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হয়; RTS শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ায়, অন্য সব দেশে আল্ট্রাএজই মানদণ্ড।
ডিআরএসের এই দ্বৈত ব্যবস্থার ফলে প্রথম টেস্টের পরে জেমি স্মিথের বিতর্কিত আউটের পর থেকে স্নিকোমিটারের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড উভয় দলই স্নিকোমিটারের ফলাফলে অসন্তোষ প্রকাশ করে, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার বেজি স্পোর্টস (BG Sports) সরবরাহকারী সংস্থা পরে স্বীকার করে যে অডিও প্রক্রিয়ার সময় অপারেটর ভুল স্টাম্প মাইক্রোফোন বেছে নেয়ার ফলে ভুল সিদ্ধান্ত হয়।
তৃতীয় টেস্টের প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার অ্যালেক্স কেয়ারিকে স্নিকোমিটারের ত্রুটির কারণে আউট হিসেবে ঘোষণা করা হয়, ফলে তিনি উইকেট পাননি। বেজি স্পোর্টস এই ভুলের সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করে এবং ইংল্যান্ডকে ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’ প্রদান করে। পরের দিন রিভিউ পুনরায় দেওয়া হয়, তবে একই দিনে দু’টি ভিন্ন স্নিকোমিটার সংক্রান্ত ঘটনা ঘটে; একটি অস্ট্রেলিয়াকে হতাশ করে, অন্যটি ইংল্যান্ডকে। সেই মুহূর্তে স্টার্ক মাইক্রোফোনে বলেন, “স্নিকোকে স্যাকড করতে হবে।”
অ্যাডিলেড টেস্টে ইংল্যান্ড ৮২ রান কমে পরাজিত হয়ে ১১ দিনের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াকে অ্যাশেজ জয় নিশ্চিত করে। তবে স্টার্কের মতে, প্রযুক্তিগত ত্রুটি দূর না করা পর্যন্ত সিরিজের গুণগত মান বজায় রাখা কঠিন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই স্নিকো ত্রুটি সকলের জন্যই হতাশাজনক—দর্শক, অফিসিয়াল, সম্প্রচারক এবং এনআইসি। যদি অফিসিয়ালরা এই সিস্টেম ব্যবহার করে, তবে কেন আইসিসি এর ব্যয় বহন করে না?”
স্টার্ক আরও প্রস্তাব করেন যে ডিআরএসের জন্য একক সরবরাহকারী নির্ধারিত হওয়া উচিত এবং পুরো সিরিজে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা উচিত, যাতে বিভ্রান্তি কমে এবং সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়। তিনি উল্লেখ করেন, “সব বোর্ডে একাধিক প্রোভাইডার না রেখে, একটিমাত্র সিস্টেমে একত্রিত হলে সম্ভবত কম ভুল হবে এবং দর্শকদের আস্থা বাড়বে।”
ডিআরএসের আরটিএস (RTS) নিয়ে অতীতেও অভিযোগ উঠে এসেছে; বিশেষ করে অ্যাডিলেড টেস্টের সময় চ্যানেল সেভেনের সম্প্রচারে প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের মন্তব্য শোনা যায়, যেখানে তিনি প্রযুক্তির নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এই ধারাবাহিক সমস্যাগুলি ডিআরএসের ভবিষ্যৎ ব্যবহারের জন্য আইসিসি-কে কঠোর পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করছে।
ডিআরএসের ব্যয় ও দায়িত্ব নিয়ে স্টার্কের আহ্বান এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বোর্ডের আলোচনার কেন্দ্রে। যদি আইসিসি এই বিষয়টি সমাধান না করে, তবে পরবর্তী সিরিজে একই ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্টার্কের মন্তব্যের পর, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের পরবর্তী টেস্ট ম্যাচের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে ডিআরএসের নির্ভুলতা পুনরায় পরীক্ষা করা হবে।
সারসংক্ষেপে, অ্যাশেজ সিরিজে ডিআরএসের ত্রুটি ও বিতর্কের মুখে স্টার্ক আইসিসি-কে ব্যয়ের দায়িত্ব নিতে এবং একক, নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। এই দাবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



