১২তম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ২৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা, তবে একই সময়ে চলমান ইন্টারন্যাশনাল লীগ টি২০ (ইএলটি২০) এর ম্যাচসূচি বিদেশি খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে বাধা সৃষ্টি করছে। ইএলটি২০ লিগ পর্যায়ের শেষ ম্যাচ ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে, আর প্লে‑অফ ও ফাইনাল ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত। ফলে বিপিএল‑এর প্রথম পর্যায়ে, বিশেষ করে সিলেটের ম্যাচগুলোতে (যা ২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে) অনেক বিদেশি ক্রিকেটার অংশ নিতে পারবেন না।
ইএলটি২০ এর লিগ ফেজ শেষ হওয়ার পরও প্লে‑অফের সম্ভাবনা থাকলে, সংশ্লিষ্ট দলগুলোর খেলোয়াড়রা সিলেটের চারটি ম্যাচের সময়সূচি মিস করতে পারেন। সিলেট পর্যায়ে বিপিএল দলগুলোকে ২৪ ডিসেম্বরের আগে বিদেশি খেলোয়াড়দের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, নতুবা দলীয় গঠন ও কৌশলে প্রভাব পড়বে।
ঢাকা ক্যাপিটালসের বিদেশি দলে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স হেলস, আফগানিস্তানের উইকেটকিপার‑ব্যাটসম্যান রহমানুল্লাহ গুরবাজ এবং শ্রীলঙ্কার অলরাউন্ডার দাসুন শানাকা অন্তর্ভুক্ত। তবে এই তিনজনই বর্তমানে ইএলটি২০ তে সক্রিয়, ফলে বিপিএল‑এর শুরুর ম্যাচগুলোতে তাদের উপস্থিতি অনিশ্চিত। শানাকার পরিস্থিতি বিশেষভাবে জটিল, কারণ তাকে শ্রীলঙ্কার টি২০ ক্যাপ্টেন হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং শ্রীলঙ্কা শীঘ্রই পাকিস্তানের সঙ্গে তিনটি টি২০ আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলবে। এই দায়িত্বের কারণে শানাকা পুরো বিপিএল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবেন না এমন সম্ভাবনা বাড়ছে।
ঢাকা ক্যাপিটালসের ব্যবস্থাপনা উসমান খান, ইমাদ ওয়াসিম, ওডিয়ান স্মিথ এবং জুবাইদ আকবারি-কে শুরুর থেকেই সিলেটে পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করেছে। এই চারজন খেলোয়াড়ের প্রত্যাশিত আগমনের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর, যা দলকে শুরুর ম্যাচগুলোতে সম্পূর্ণ বিদেশি দলে গঠন করতে সহায়তা করবে।
রংপুর রাইডার্সের ক্ষেত্রে অলরাউন্ডার কাইল মেয়ার্সের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মেয়ার্সের ইএলটি২০ দল গাল্ফ জায়ান্টস টেবিলে চতুর্থ স্থানে রয়েছে এবং দুইটি লিগ ম্যাচ বাকি। গাল্ফ জায়ান্টস যদি প্লে‑অফে পৌঁছায়, তবে রংপুর রাইডার্সের সিলেট পর্যায়ের (২৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু) চারটি ম্যাচের মধ্যে মেয়ার্সের উপস্থিতি সীমিত হতে পারে।
রংপুরের একটি কর্মকর্তার মতে, গাল্ফ জায়ান্টস যদি ইএলটি২০ থেকে বেরিয়ে যায়, তবে মেয়ার্সকে শুরুর থেকেই দলকে যোগদান করতে দেখা যাবে; অন্যথায় তিনি কিছু ম্যাচ মিস করতে পারেন। তবে রাইডার্সের অন্যান্য বিদেশি খেলোয়াড়দের শুরুর থেকেই মাঠে নামার প্রত্যাশা রয়েছে।
নতুন দল নোয়াখালি এক্সপ্রেসও বিদেশি খেলোয়াড়ের অপেক্ষায় রয়েছে। মোহাম্মদ নাবি এবং সাদেকুল্লাহ আতাল বর্তমানে ইএলটি২০ তে দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে খেলছেন, ফলে নোয়াখালি এক্সপ্রেসের জন্য তাদের উপলভ্যতা এখনো অনিশ্চিত। এই দুইজনের পাশাপাশি দলটি আরও বিদেশি রিক্রুটের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ইএলটি২০ ও বিপিএলের সময়সূচি সংঘর্ষের ফলে বেশ কয়েকটি দলই বিদেশি খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধতা মুখোমুখি। যদিও কিছু খেলোয়াড়ের আগমনের সম্ভাবনা ইতিবাচক, তবে প্লে‑অফে গিয়ে যদি ইএলটি২০ দলগুলো তাদের শেডিউল বজায় রাখে, তবে বিপিএল‑এর শুরুর পর্যায়ে দলীয় গঠন ও পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে। এই অনিশ্চয়তা দলগুলোকে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করতে এবং দেশীয় খেলোয়াড়দের ভূমিকা বাড়াতে বাধ্য করছে।
বিপিএল ১২তম সংস্করণে এই সময়সূচি সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো কিভাবে সমাধান হবে, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।



