20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাঅস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ডের টানা ব্যর্থতার কারণ নিয়ে গ্লেন ম্যাকগ্রা মন্তব্য

অস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ডের টানা ব্যর্থতার কারণ নিয়ে গ্লেন ম্যাকগ্রা মন্তব্য

অস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ডের টেস্ট জয়ের দীর্ঘ শূন্যতা নিয়ে প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান পেস বোলার গ্লেন ম্যাকগ্রা তার মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন, ইংল্যান্ডের সমস্যার মূল কারণ সামর্থ্যের ঘাটতি নয়, বরং মানসিক দিকের দুর্বলতা।

ইংল্যান্ডের শেষ সফল অস্ট্রেলিয়া টেস্ট জয় ২০১০-১১ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজে ছিল। সেই জয়ের পর থেকে প্রায় পনেরো বছর কেটে গেছে, আর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো টেস্ট জয় তাদের পায়নি। মোট আটারো টেস্টের মধ্যে তারা মাত্র দু’টি জিততে পেরেছে, বাকিগুলো হারে শেষ হয়েছে।

এই সিরিজে ইংল্যান্ড উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পা রাখে। দলটি অ্যাশেজ ট্রফি ফিরে আনার স্বপ্নে উচ্ছ্বসিত ছিল, এবং মিডিয়ায় অস্ট্রেলিয়ান দলকে “বুড়ো” বলে সমালোচনা করা হয়। স্টুয়ার্ট ব্রড, ইংল্যান্ডের পেস বোলার, অস্ট্রেলিয়ান দলকে “গত পনেরো বছরের সবচেয়ে দুর্বল” বলে উল্লেখ করেন।

অস্ট্রেলিয়ান দল প্রথম তিনটি টেস্টই জিতে শীঘ্রই অ্যাশেজ রক্ষা করে। এই জয়গুলো মাত্র এগারো দিনে সম্পন্ন হয়, যা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় সাফল্য। তবে এই জয়গুলোতে দলটি কিছু মূল খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও অর্জিত হয়।

প্রথম দুই টেস্টে নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স অংশ নেননি, তৃতীয় টেস্টে স্টিভেন স্মিথ অনুপস্থিত ছিলেন, এবং অভিজ্ঞ পেসার জশ হেইজেলউড কোনো টেস্টে খেলেননি। তবুও অস্ট্রেলিয়ান দল ধারাবাহিকভাবে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়।

ম্যাকগ্রা এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, ইংল্যান্ডের ধারাবাহিক ব্যর্থতা কেবল সামর্থ্যের ঘাটতি নয়, বরং মানসিক প্রস্তুতির অভাবের ফল। তিনি উল্লেখ করেন, অস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ডের দীর্ঘ ব্যর্থতা অস্বীকারযোগ্য, তবে তা তাদের দক্ষতার অভাবের কারণে নয়।

ম্যাকগ্রা আরও উল্লেখ করেন, শেষ জয়ের পর থেকে ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়া খেলোয়াড়দের তালিকা দীর্ঘ। অ্যালেস্টার কুক, কেভিন পিটারসেন, জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড, ক্রিস ওকস, মার্ক উড, জো রুট এবং বেন স্টোকস এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

এই খেলোয়াড়দের মধ্যে জো রুট ও বেন স্টোকস বর্তমান দলে মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত, তবে তারা কখনো অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জয় অর্জন করতে পারেনি। ম্যাকগ্রা বলেন, এই দুই খেলোয়াড়ের সাফল্য সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের কোনো জয় নেই।

ইংল্যান্ডের টেস্ট রেকর্ডে দেখা যায়, পনেরো বছরে আটারো টেস্টের মধ্যে তারা মাত্র দু’টি জিতেছে, বাকি ষোলটি হারে শেষ হয়েছে। এই পরিসংখ্যান দেখায় যে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন শর্তে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে দুর্বল।

ম্যাকগ্রা এই ব্যর্থতার পেছনে মানসিক দিকের গুরুত্বকে জোর দিয়ে বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট জয় না করা অস্বাভাবিক, তবে এটি খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতির ঘাটতি থেকে উদ্ভূত।”

অস্ট্রেলিয়ান পেস বোলিং গ্রেটের মতে, ইংল্যান্ডের সমস্যার সমাধান কেবল শারীরিক দক্ষতা নয়, বরং মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ টেস্ট সিরিজে এই দিকটি উন্নত হলে ফলাফল বদলাবে।

সারসংক্ষেপে, গ্লেন ম্যাকগ্রা অস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ডের টানা ব্যর্থতার মূল কারণকে মানসিক দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, এবং উল্লেখ করেছেন যে অস্ট্রেলিয়ান দল অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতেও ধারাবাহিকভাবে জয় অর্জন করেছে। এই বিশ্লেষণ ইংল্যান্ডের টেস্ট কৌশল ও প্রস্তুতির পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments