বাংলাদেশ ব্যাংক ২২ ডিসেম্বর, সোমবার, একীভূত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির অধীনে থাকা পাঁচটি শেরিয়াহ‑ভিত্তিক ব্যাংকের শেয়ারমূল্য শূন্যে নামিয়ে আনার নির্দেশ জারি করেছে। এতে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক অন্তর্ভুক্ত।
এই পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ হল প্রতিটি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ঋণাত্মক অবস্থায় থাকা, যা ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্স, ২০২৫‑এর বিধান অনুযায়ী, শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদ রক্ষা এবং আর্থিক সিস্টেমের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, “ব্রেক‑ইভেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উল্লিখিত পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারের নিট সম্পদমূল্য শেয়ারপ্রতি ঋণাত্মক, ফলে শেয়ারগুলোকে শূন্যে নামিয়ে আনা বাধ্যতামূলক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এই ব্যবস্থা ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্সের অধীনে সম্পদ‑সুরক্ষা এবং বাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে।”
শেয়ারমূল্য শূন্যে নামিয়ে আনা মানে হল শেয়ারহোল্ডারদের মূলধন সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা। ফলে বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের সম্পূর্ণ ক্ষতি স্বীকার করতে বাধ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলো আর কোনো লিকুইডিটি প্রদান করবে না। শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এটি তীব্র আর্থিক আঘাত, পাশাপাশি শেয়ার বাজারে আস্থা হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি করে।
ইসলামী ব্যাংকিং সেক্টরে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ার শূন্যে নামিয়ে আনা বাজারে শেয়ারহোল্ডারদের ঝুঁকি সচেতনতা বাড়াবে এবং অন্যান্য শেরিয়াহ‑ভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপর নজরদারি বাড়াবে। একই সঙ্গে, এই পদক্ষেপ আর্থিক সংস্থাগুলোর পুঁজি কাঠামো ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে।
শেয়ারবাজারে তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, সংশ্লিষ্ট সূচকগুলোতে হ্রাস এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতি এবং সম্ভাব্য লিকুইডেশন ঝুঁকি বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা সামগ্রিক শেয়ারবাজারের স্বল্পমেয়াদী পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করবে।
নিয়ন্ত্রক দৃষ্টিকোণ থেকে, ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্সের মূল উদ্দেশ্য হল ডিপোজিটরদের স্বার্থ রক্ষা এবং আর্থিক সিস্টেমের অস্থিতিশীলতা রোধ করা। শেয়ার শূন্যে নামিয়ে আনার মাধ্যমে, ব্যাংকিং সেক্টরের সম্ভাব্য দেউলিয়া ঝুঁকি কমিয়ে, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে, এই পদক্ষেপ অন্যান্য ব্যাংকের জন্য সতর্কতা সংকেত হিসেবে কাজ করবে, যাতে তারা যথাযথ পুঁজি পর্যাপ্তি ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দেয়।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, শেয়ার শূন্যে নামিয়ে আনা পাঁচটি ব্যাংকের পুনর্গঠন বা মিশ্রণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে। পুঁজি পুনরুদ্ধার, নতুন শেয়ার ইস্যু বা অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভবন এই ব্যাংকগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাব্য পথ হতে পারে। তবে, এর জন্য শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা, স্বচ্ছ আর্থিক রিপোর্টিং এবং যথাযথ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হবে, যাতে পুনরায় একই ধরনের আর্থিক ঘাটতি না দেখা দেয়।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ব্যাংকের শেয়ার শূন্য ঘোষণার নির্দেশ শেরিয়াহ‑ভিত্তিক ব্যাংকিং সেক্টরে তীব্র সতর্কতা সৃষ্টি করেছে। শেয়ারহোল্ডারদের সম্পূর্ণ ক্ষতি, বাজারের অস্থিরতা এবং নিয়ন্ত্রক তত্ত্বাবধানের শক্তিশালীকরণ এই পদক্ষেপের প্রধান ফলাফল। ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, পুঁজি পুনর্বিন্যাস এবং শাসনব্যবস্থার উন্নতি আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



