বিনোদন জগতের বিশিষ্ট পরিচালক শ্যাম বেনেগাল ২৩ ডিসেম্বর, ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। মুম্বাইয়ের ওকহার্ড হাসপাতালে কিডনি সংক্রান্ত সমস্যার জন্য ভর্তি থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
তাঁর মৃত্যুর খবর তাঁর কন্যা পিয়া বেনেগাল নিশ্চিত করেছেন। পরিবারগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত কোনো বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
বেনেগাল ১৪ ডিসেম্বর তার ৯০তম জন্মদিন মুম্বাইতে বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে উদযাপন করেন। ঐ অনুষ্ঠানের ছবি প্রখ্যাত অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে সমবেত শিল্পজগতের দুঃখ প্রকাশ করেন।
চলচ্চিত্রে তাঁর কর্মজীবন পাঁচ দশক অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে বহু সমালোচকদের প্রশংসিত কাজ রয়েছে। তিনি প্রথমে ছোটো গল্পের মাধ্যমে সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরতে শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে সমান্তরাল চলচ্চিত্রের পথিকৃৎ হয়ে ওঠেন।
তার অন্যতম উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘অঙ্কুর’, ‘মন্তন’, ‘জুবেইদা’, ‘ভূমিকা’ এবং ‘সারদারী বেগম’ অন্তর্ভুক্ত। এই ছবিগুলো ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং বহু পুরস্কার অর্জন করেছে।
বেনেগালের ছবিগুলো প্রায়শই সামাজিক ন্যায়, নারীর ক্ষমতায়ন এবং গ্রামীণ উন্নয়নের বিষয়বস্তু নিয়ে গড়ে উঠেছে। তিনি সাধারণ মানুষের জীবনের সংগ্রামকে সূক্ষ্মভাবে চিত্রায়িত করে দর্শকের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছেন।
ভারতীয় সমান্তরাল সিনেমার পথপ্রদর্শক হিসেবে তার অবদান অস্বীকারযোগ্য। বেনেগালের কাজগুলো বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের সীমা ছাড়িয়ে শিল্পের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
তার সাফল্যের স্বীকৃতিতে তিনি আটারো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৯৭৬ সালে পদ্মশ্রী এবং ১৯৯১ সালে পদ্মভূষণসহ বহু সম্মাননা পেয়েছেন। এই পুরস্কারগুলো তাঁর সৃজনশীলতা ও সমাজসেবার মূর্ত প্রতীক।
শিল্পজগতের প্রতিক্রিয়া তীব্র ছিল; সামাজিক মাধ্যমে ভক্ত ও সহকর্মীরা একের পর এক শোকসূচক বার্তা প্রকাশ করেন। বহু অভিনেতা, পরিচালক এবং চলচ্চিত্র সমালোচক বেনেগালের কর্মজীবনকে স্মরণ করে তার অবদানের প্রশংসা করেছেন।
অনেক দর্শক তার ছবিগুলোর দৃশ্য, সংলাপ ও চরিত্রের মাধ্যমে জীবনের শিক্ষা পেয়েছেন। তার কাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তারা পুরনো পোস্টার, ক্লিপ এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে একত্রিত হয়েছেন।
শিল্পের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বেনেগালের গল্প বলার পদ্ধতি ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি একটি মডেল হিসেবে রয়ে যাবে। তার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনের বার্তা নতুন পরিচালকরা ধারাবাহিকভাবে গ্রহণ করবে বলে আশা করা যায়।
শ্রদ্ধেয় পরিচালক নীরা বেনেগাল ও কন্যা পিয়া বেনেগাল এই ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শিল্পমঞ্চের সকল সদস্য এবং ভক্তরা তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শ্যাম বেনেগালের স্মৃতিকে চিরন্তন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।



