মার‑আ‑লাগো রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে পদত্যাগের পরামর্শ দেন। তিনি জানিয়েছেন, মাদুরো যদি কঠোর রীতি বজায় রাখে, তবে তা তার শেষ সুযোগ হতে পারে। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তেলবাহক জাহাজের ওপর চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা পুনরায় জোরদার করা হয়।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর রাশিয়া মাদুরোর সরকারকে “পূর্ণ সমর্থন” জানিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়। একই সময়ে চীন ভেনেজুয়েলার উপকূলে দুইটি তেলবাহক জাহাজের অধিগ্রহণকে কঠোরভাবে নিন্দা করে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে অবৈধ বলে উল্লেখ করে।
মার‑আ‑লাগোতে ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ উপস্থিত ছিলেন। তারা চার মাসের বেশি সময় ধরে চালু থাকা ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত চাপ অভিযানকে আরও তীব্র করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ইতিমধ্যে তৃতীয় তেলবাহক জাহাজকে অনুসরণ করছে, যা ভেনেজুয়েলার “ডার্ক ফ্লিট” হিসেবে পরিচিত এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত হয়।
কোস্ট গার্ডের অনুসরণ চলমান জাহাজটি অবশেষে ধরা পড়বে বলে ট্রাম্প আশ্বাস দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ইতিমধ্যে আটকে থাকা প্রায় চার মিলিয়ন ব্যারেল তেল ও জাহাজগুলোর ভবিষ্যৎ ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই তেলগুলো বিক্রি করা, সংরক্ষণে রাখা অথবা কৌশলগত রিজার্ভে ব্যবহার করা—all possible options.
যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা তেল শিল্পের ওপর চাপ বাড়ানোর পেছনে দক্ষিণ আমেরিকায় সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং মাদক পাচার মোকাবিলার নামে সমুদ্রপথে আক্রমণ অন্তর্ভুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সমুদ্রে মাদক পাচার জাহাজের ওপর দুই ডজনেরও বেশি আক্রমণ চালানো হয়েছে, যার ফলে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এই আক্রমণগুলোর বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা সরকার মাদক পাচার সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ণ করতে চায়। মাদুরো সরকার যুক্তরাষ্ট্রের তেলবাহক জাহাজের অধিগ্রহণকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে, এবং রাশিয়া ও চীনের সমর্থনকে তাদের কূটনৈতিক সুরক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছে।
ট্রাম্পের সতর্কতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক-অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ফলে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। তেল রপ্তানি দেশের প্রধান আয় উৎস, এবং নিষেধাজ্ঞা ও জাহাজের আটক দেশের আর্থিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন। একই সঙ্গে, রাশিয়া ও চীনের সমর্থন ভেনেজুয়েলার আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনৈতিক ভারসাম্যকে পরিবর্তন করতে পারে।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের তেলবাহক জাহাজের ওপর আরেকটি ধরা বা তেল বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত কী হবে, তা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলতে পারে। মাদুরো যদি পদত্যাগের দিকে অগ্রসর হন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে রাশিয়া-চীন সমর্থন বজায় থাকলে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক দিক থেকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।
এই ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্কের নতুন পর্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে, যেখানে কূটনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক উপাদানগুলো একসাথে কাজ করে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপট গঠন করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, এই সংঘাতের সমাধান কীভাবে গড়ে উঠবে, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে বর্তমান পরিস্থিতি ইতিমধ্যে উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।



