আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের গ্রুপ বি ম্যাচে ইজিপ্টের লিগার শীর্ষস্থানীয় ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ অতিরিক্ত সময়ে একক গোলের মাধ্যমে দলকে ২-১ দিয়ে জিম্বাবুয়ের ওপর জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচটি মরক্কোর আগাদিরে ৪০,০০০ দর্শকের সামনে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথমার্ধের ২০তম মিনিটে জিম্বাবুয়ের প্রিন্স ডুবে এক চমকপ্রদ গোলের মাধ্যমে ইজিপ্টকে পিছিয়ে রাখেন। এমমানুয়েল জালাইয়ের ক্রসের পরে ডুব বলটি নিয়ন্ত্রণ করে মোহাম্মদ এল শেনাওয়ির গলপোস্টের কোণায় নিচু শট মারেন, যা গলরক্ষককে অতিক্রম করে নেটের জালে ঢুকে যায়।
ইজিপ্টের প্রথমে আক্রমণাত্মক চাপ সত্ত্বেও জিম্বাবুয়ের সব একাদশ খেলোয়াড়ই তাদের ত্রৈভুজে ফিরে যেতে বাধ্য হন। সালাহের বামফ্ল্যাঙ্ক থেকে কৌণিক ক্রসটি কোনো ফল না দিলেও, দলটি ধারাবাহিকভাবে শট ও পাসের মাধ্যমে সুযোগ তৈরি করে।
মধ্যমেয়াদে ইজিপ্টের কোচ হোসাম হাসান টাচলাইন থেকে নির্দেশনা দেন, তবে জিম্বাবুয়ের রক্ষণশীলতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া তাকে কিছুটা বিরক্ত করে। গেমের ৬৩তম মিনিটে ওমর মারমুশের সমান করার গোলের মাধ্যমে ইজিপ্টের স্কোর সমান হয়। মারমুশ ডিফেন্সের অফসাইড ফাঁদ ভেঙে বলটি গ্রহণ করে, তবে গলরক্ষক ওয়াশিংটন আরুবি দ্রুত বেরিয়ে এসে ক্লিয়ার করেন।
সামনের দিকে ইজিপ্টের আক্রমণ তীব্র হয়, সালাহের কাছ থেকে এক ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসের পরে তিনি নিজে শট মারতে চেষ্টা করেন, তবে তা রক্ষাকারী দ্বারা বাধা পায়। দলটি ধারাবাহিকভাবে জিম্বাবুয়ের গোলরক্ষককে চাপ দেয়, কিন্তু শটগুলো বেশিরভাগই রক্ষকের হাত থেকে রক্ষা পায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে ইজিপ্টের আক্রমণ আরও বাড়ে। সালাহের দ্রুত দৌড়ে তিনি পেনাল্টি এলাকার মধ্যে একটি ফ্রি বল পেয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করে, এবং ৪০ বছর বয়সী গলরক্ষক ওয়াশিংটন আরুবির সামনে থেকে শটটি নিখুঁতভাবে কোণায় পাঠিয়ে গলপোস্টের নিচে গলে যায়। এই গোলই ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করে।
গোলের পর ইজিপ্টের খেলোয়াড়রা উল্লাসে ভরে ওঠে, যদিও স্টেডিয়ামের বেশিরভাগ দর্শক জিম্বাবুয়ের সমর্থক ছিলেন। ম্যাচের শেষে ইজিপ্টের পয়েন্ট টেবিলে তিনটি পয়েন্ট যোগ হয়, যা গ্রুপের প্রথম রাউন্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সমান করে। দক্ষিণ আফ্রিকা আগের ম্যাচে মারাকেশে অঙ্গোলাকে ২-১ দিয়ে পরাজিত করেছিল।
ইজিপ্টের জয় দলকে গ্রুপের পরবর্তী ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস দেয়। পরবর্তী রাউন্ডে ইজিপ্টের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, যেখানে দু’দলই শূন্যে শুরু করবে এবং পয়েন্টের জন্য তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
সালাহের এই গোল তার লিভারপুলে সাম্প্রতিক অনুপস্থিতির পর ফিরে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। লিভারপুলে পাঁচটি ধারাবাহিক ম্যাচে স্টার্ট না করা পরেও তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের মূল্য প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।
ম্যাচের পর কোচ হাসান দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন, তবে রক্ষণাত্মক দিকের কিছু ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করেন, যা পরের ম্যাচে সংশোধন করা প্রয়োজন। তিনি বিশেষ করে গলরক্ষকের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন।
ইজিপ্টের ফ্যানরা সামাজিক মাধ্যমে সালাহের গোলকে প্রশংসা করে, তাকে দেশের গর্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে জিম্বাবুয়ের সমর্থকরা ডুবের প্রাথমিক গোলের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, যদিও শেষ পর্যন্ত তারা পরাজিত হয়।
এই ম্যাচটি আফ্রিকান ফুটবলের উঁচু মানের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে দুই দলই উচ্চমানের কৌশল ও শারীরিক প্রস্তুতি প্রদর্শন করেছে। ভবিষ্যতে গ্রুপের ফলাফল নির্ধারণে এই ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



