19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইসরায়েলি নিবন্ধন নীতি গাজা ও পশ্চিম তীরের মানবিক সহায়তায় ঝুঁকি সৃষ্টি

ইসরায়েলি নিবন্ধন নীতি গাজা ও পশ্চিম তীরের মানবিক সহায়তায় ঝুঁকি সৃষ্টি

ইসরায়েল ৩১ ডিসেম্বরের আগে আন্তর্জাতিক অ-সরকারি সংস্থাগুলো (INGO) নিবন্ধন না করালে, ৬০ দিনের মধ্যে তাদের কাজ বন্ধ করতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সংস্থা সতর্ক করেছে। এই পদক্ষেপ গাজা ও পশ্চিম তীরের দখলকৃত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি সেবা ব্যাহত করার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

নতুন নিবন্ধন ব্যবস্থা মার্চ মাসে চালু হয় এবং এতে বেশ কয়েকটি প্রত্যাখ্যানের মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই মানদণ্ডের মধ্যে রয়েছে সংস্থার আর্থিক স্বচ্ছতা, কর্মী গঠন এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল, তবে মানবিক সংস্থাগুলো দাবি করে যে এসব শর্ত আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।

ইসরায়েলের ডায়াস্পোরা বিষয়ক ও অ্যান্টি-সেমিটিজম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ‘রোগী সংগঠন’ হিসেবে বিবেচিত না হওয়া সংস্থাগুলোর প্রস্থান মানবিক সহায়তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে, সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে তাদের নিবন্ধন আবেদন এখনো অনুমোদিত হয়নি এবং তারা এই সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার জন্য সব সম্ভাব্য উপায় অনুসন্ধান করছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রায় ১০০টি আবেদনপত্রের মধ্যে ১৪টি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, ২১টি অনুমোদিত হয়েছে এবং বাকি আবেদনগুলো এখনও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। এই সংখ্যাগুলো নির্দেশ করে যে অধিকাংশ সংস্থা এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে, যা মানবিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

অকুপাইড প্যালেস্টাইন টেরিটরি হিউম্যানিটেরিয়ান কান্ট্রি টিম (HCT) বুধবার একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, নতুন সিস্টেমটি ‘মূলত INGOs-এর কাজকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে’। দলটি যুক্তি দিয়েছে যে মানদণ্ডগুলো অস্পষ্ট, স্বেচ্ছাচারী এবং অত্যন্ত রাজনৈতিক, যা মানবিক সংস্থাগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন না করে পূরণ করা কঠিন করে তুলছে।

HCT আরও জানিয়েছে, যদিও কিছু INGOs নতুন সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছে, তবু তাদের সংখ্যা গাজা ও পশ্চিম তীরে প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবার চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। বর্তমানে এই সংস্থাগুলো গাজার বেশিরভাগ ফিল্ড হাসপাতাল, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জরুরি শেল্টার, পানীয় জল ও স্যানিটেশন সেবা এবং তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে এমন শিশুদের পুষ্টি স্থিতিশীলতা কেন্দ্র পরিচালনা বা সমর্থন করে।

একজন আন্তর্জাতিক মানবিক নীতি বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “ইসরায়েলের নতুন নিবন্ধন নীতি আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি মানবিক সহায়তার কার্যকারিতা হ্রাসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি এই সংস্থাগুলোকে দ্রুত অনুমোদন না দেওয়া হয়, তবে গাজা ও পশ্চিম তীরে রোগের বিস্তার, পানীয় জলের ঘাটতি এবং শেল্টার সংকট বাড়তে পারে।”

ইউএন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সমন্বয়কারী সংস্থা গুলো ইতিমধ্যে ইসরায়েলকে এই নীতি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা জোর দিয়েছে যে, মানবিক সহায়তা কোনো রাজনৈতিক শর্তের অধীন হওয়া উচিত নয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সবার সমান অধিকার রয়েছে।

ইসরায়েলি সরকার বলেছে, নতুন সিস্টেমের লক্ষ্য ‘অবৈধ’ বা ‘রোগী’ সংস্থাগুলোকে চিহ্নিত করা, তবে মানবিক সংস্থাগুলোর উদ্বেগকে উপেক্ষা করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো ইতিমধ্যে গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত তহবিল ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছে।

পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে, মন্ত্রণালয়কে বাকি আবেদনগুলোর পর্যালোচনা শেষ করতে হবে এবং সংস্থাগুলোকে স্পষ্ট সময়সীমা জানাতে হবে। যদি নিবন্ধন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলতে থাকে, তবে গাজা ও পশ্চিম তীরে স্বাস্থ্যসেবা, শেল্টার ও পানীয় জলের সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে, যা ইতিমধ্যে সংকটাপন্ন মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানবিক নেটওয়ার্ককে একত্রিত করে, যাতে বিকল্প তহবিলের উৎস ও লজিস্টিক সমর্থন নিশ্চিত করা যায়। তবে, শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি নীতি পরিবর্তন না হলে, গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবিক সহায়তার কাঠামো ধ্বংসের পথে ধাবিত হতে পারে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments