হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রতি অবকাঠামো ও প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে যাত্রীসেবা ও লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। চেক‑ইন, ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় আধুনিক স্ক্যানার, অতিরিক্ত কাউন্টার এবং পুনর্গঠিত কর্মীবাহিনীর ফলে গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ও বডি‑ওয়ার্ন ক্যামেরা স্থাপন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে, ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হচ্ছে।
নতুন স্ক্যানিং যন্ত্রের ব্যবহার এবং কাউন্টার সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে চেক‑ইন ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া পূর্বের তুলনায় দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে। কর্মী পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে টার্মিনালের ভিড় কমে, অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। নিরাপত্তা ক্ষেত্রে উন্নত নজরদারি সিস্টেম এবং স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা যুক্ত হওয়ায় অননুমোদিত প্রবেশের ঝুঁকি কমে এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
লাগেজ হ্যান্ডলিং ক্ষেত্রেও উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। আধুনিক বডি‑ওয়ার্ন ক্যামেরা ও স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং সিস্টেমের সংযোজনের ফলে লাগেজ ডেলিভারির সময় কমে এবং হারানো লাগেজের অভিযোগে উল্লেখযোগ্য হ্রাস এসেছে। যাত্রীদের জন্য পরিষ্কার বসার ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব পরিষেবা এবং ডিজিটাল সাইনেজের উন্নয়ন তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করেছে, যা সামগ্রিক অভিজ্ঞতাকে উন্নত করেছে।
একজন প্রবাসী কর্মী উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে না হয়ে এখন অপেক্ষার সময় কমে গেছে এবং তথ্যসেবা ডেস্কের ডিজিটাল সাইনেজের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পাওয়া যায়। বডি‑ওয়ার্ন ক্যামেরা সম্প্রসারণের ফলে লাগেজ সংক্রান্ত উদ্বেগ কমে, যা দীর্ঘদিনের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করেছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেএম আবু নওশাদ ব্যক্তিগতভাবে দলগত উদ্যোগ ও প্রক্রিয়াগত সাফল্যের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, সমন্বিত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে সেবা মান উন্নত করা সম্ভব। তিনি যাত্রীদের যেকোনো সমস্যা, প্রস্তাব বা পরামর্শ বিমানবন্দরের হটলাইন (১৩৬০০) এ জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন, যা সেবা উন্নয়নের জন্য সরাসরি প্রতিক্রিয়া চ্যানেল হিসেবে কাজ করবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ প্রধান বসরা ইসলাম জানান, লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বডি‑ওয়ার্ন ক্যামেরা চালু করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উভয় ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সেবা প্রদানকে সমর্থন করে।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে এই উন্নয়নগুলো বিমানবন্দরের কার্যকরী দক্ষতা বাড়িয়ে আয় বৃদ্ধি এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি উন্নত করতে সহায়ক। দ্রুত চেক‑ইন ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কমিয়ে এয়ারলাইনগুলোকে অতিরিক্ত ফ্লাইট চালানোর সুযোগ দেয়, ফলে টার্মিনালের ব্যবহারিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নিরাপত্তা ও লাগেজ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা গ্রাহকের আস্থা বাড়ায়, যা পুনরায় ভ্রমণ ও উচ্চমূল্যের সেবা প্যাকেজের চাহিদা বাড়াতে পারে।
পরিবেশবান্ধব পরিষেবা ও ডিজিটাল তথ্যসেবার সংযোজন টার্মিনালের আধুনিক চিত্র গড়ে তুলছে, যা আন্তর্জাতিক সংযোগ বাড়াতে এবং নতুন এয়ারলাইনকে আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে, বডি‑ওয়ার্ন ক্যামেরা ও স্বয়ংক্রিয় নজরদারি সিস্টেমের মাধ্যমে নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস পায়, যা বীমা প্রিমিয়াম কমাতে এবং অপারেশনাল খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
ভবিষ্যতে প্রযুক্তি-নির্ভর সেবা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল সাইনেজের আপডেট এবং স্বয়ংক্রিয় লাগেজ ট্র্যাকিং সিস্টেমের উন্নতি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আঞ্চলিক হাব হিসেবে তার অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে। তবে, সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মী প্রশিক্ষণ এবং ডেটা সুরক্ষার যথাযথ ব্যবস্থাপনা না হলে প্রযুক্তি-ভিত্তিক সেবার কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে, তাই এই দিকগুলোতে ধারাবাহিক নজরদারি প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও লাগেজ পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই পরিবর্তনগুলো কেবল গ্রাহকের অভিজ্ঞতা উন্নতই করে না, বরং টার্মিনালের ব্যবসায়িক কার্যকারিতা, আয় এবং বাজার প্রতিযোগিতায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও সেবা মান বজায় রাখার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক যাত্রীকে আকৃষ্ট করার সম্ভাবনা রয়েছে।



