কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে অবস্থিত ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী হং‑উ লি জানান, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টেন্ট ও ক্যাম্পিং সামগ্রীর রপ্তানি পূর্ববছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই সময়কালে গ্লোবাল বাজারের চাহিদা পুনরায় সক্রিয় হওয়ায় পূর্বে জমা থাকা কোভিড‑জনিত স্টক দ্রুত বিক্রি হয়েছে।
রপ্তানি তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি মাত্র ২২২ মিলিয়ন ডলার, যা পূর্ববছরের তুলনায় ১৭০ মিলিয়ন ডলার হ্রাসের পরিণতি। অর্থাৎ, কোভিডের শীর্ষে রপ্তানি হ্রাসের পর এখন ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে।
সেক্টরের সর্বোচ্চ রপ্তানি ২০২২ অর্থবছরে ৩৯২ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, তবে পরের দুই বছর ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়ে ২০২৪-২৫ সালে ২২২ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ২০২৫ অর্থবছরে সামান্য উন্নতি দেখা যায়, যেখানে রপ্তানি ২ শতাংশ বাড়ে এবং মোট ২২৬ মিলিয়ন ডলার রেকর্ড করে।
হং‑উ লি উল্লেখ করেন, কোভিডের সময় মানুষ বিদেশি ভ্রমণের পরিবর্তে দেশীয় ক্যাম্পিং কার্যক্রমে ঝুঁকে গিয়েছিল, ফলে টেন্ট ও ক্যাম্পিং গিয়ারের চাহিদা তীব্রভাবে বেড়েছে। কোভিড শেষ হওয়ার পর বাজারে বড় পরিমাণে অবশিষ্ট পণ্য রয়ে গিয়েছিল, যা ধীরে ধীরে বিক্রি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন অর্ডার বাড়তে শুরু করে। তিনি ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে ২০২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আরও উন্নত হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল মূলত ইনস্ট্যান্ট টেন্ট এবং প্লাস্টিক মোল্ড উৎপাদনে মনোযোগী, এবং এর রপ্তানি প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রে যায়। কোম্পানি উল্লেখ করে, বাংলাদেশ এখন টেন্ট নির্মাতাদের জন্য আকর্ষণীয় উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, কারণ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের উৎপাদন ইউনিট এখানে স্থাপিত হয়েছে। এই প্রবণতা ক্রেতাদের জন্য সুবিধাজনক, কারণ সরাসরি উৎপাদন থেকে সরবরাহের সময় ও খরচ কমে যায়।
কোম্পানি মিরসরাই রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে বিনিয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা দেশের শিল্প ভিত্তি বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশে অর্ধ ডজনেরও বেশি টেন্ট ও ক্যাম্পিং গিয়ার নির্মাতা রয়েছে, এবং তাদের বেশিরভাগই রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে অবস্থিত, যা রপ্তানি কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ায়।
চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে অবস্থিত এইচকেড ইউনি‑টেক লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাফাত হুসেইন জানান, তাদের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ এবং জাপান। এই কোম্পানি বিশ্ববাজারে অন্যতম বৃহৎ ক্যাম্পিং গিয়ার প্রস্তুতকারক, যা আউটডোর চেয়ার, কট এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উৎপাদন করে। এছাড়া, তারা স্টিলের পোল ও পাইপ উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, যা ক্যাম্পিং গিয়ারের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব উন্নত করবে।
সামগ্রিকভাবে, টেন্ট ও ক্যাম্পিং গিয়ার সেক্টর কোভিডের পরবর্তী সময়ে সঞ্চিত মজুদ বিক্রির ফলে চাহিদা পুনরুদ্ধার করছে এবং নতুন অর্ডার প্রবাহের সঙ্গে রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। তবে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা এবং মুদ্রা পরিবর্তনের ঝুঁকি সেক্টরের বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে পর্যটন ও আউটডোর কার্যক্রমের প্রবণতা বজায় থাকে, তবে বাংলাদেশি টেন্ট ও ক্যাম্পিং গিয়ার নির্মাতাদের রপ্তানি আয় আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে, উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং গুণগত মান বজায় রাখার জন্য প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি।
সারসংক্ষেপে, টেন্ট ও ক্যাম্পিং গিয়ার রপ্তানি সম্প্রতি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে, এবং শিল্পের প্রধান খেলোয়াড়রা নতুন বাজার সুযোগের সন্ধানে সক্রিয়। সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা সেক্টরের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



