বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশে ফিরে আসার উপলক্ষে ২২ ডিসেম্বর বিকেলে জয়পুরহাটে বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো অতিক্রম করে, শেষ পর্যন্ত বাজলা স্কুলের সামনে সমাপ্ত হয়। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নেতা-নেত্রীর স্বাগত জানানো এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে তার উপস্থিতির তাৎপর্য তুলে ধরা।
মিছিলের শুরুর মুহূর্তে জেলা ছাত্রদল সদস্যরা সাদা‑লাল পতাকা ও ব্যানার হাতে শহরের প্রধান রাস্তাগুলোতে চলা শুরু করে। তারা শহরের বিভিন্ন মোড়ে থেমে সঙ্গীত ও নৃত্যসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে, যা উপস্থিত জনগণের মধ্যে উচ্ছ্বাসের স্রোত তৈরি করে। মিছিলের শেষ গন্তব্য বাজলা স্কুলের সামনে পৌঁছে, যেখানে একটি ছোট পার্কে সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মিছিলের পর অনুষ্ঠিত পথসভায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মামুনুর রশীদ প্রধান, সহ‑সভাপতি আবু তাহের, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাইসুল ইসলাম রিপন, দপ্তর সম্পাদক রাসেল আহমেদ আকাশ, সদর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিদ উদ্দিন ও রবিউল ইসলাম, এবং সদস্য সচিব রিপন হোসেন প্রধান ভাষণ দেন। তাদের বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠনে তারেক রহমানের ভূমিকা ও স্বদেশে ফিরে আসার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়।
এর পাশাপাশি জয়পুরহাট সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব পিয়াস আহমেদ পৃথিবী, শহর ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাসানুল বান্না হাসান, পাঁচবিবি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আপেল মাহমুদ, ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দেওয়ান হাসান ও সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলাম, কালাই ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাফি ও সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দও তাদের মতামত প্রকাশ করেন। তারা সবাই একত্রে তর্ক করেন যে, দীর্ঘ ১৮ বছর পর দেশের অন্যতম নেতা তার স্বদেশে ফিরে আসা শুধুমাত্র বিএনপির জন্য নয়, সমগ্র দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
বক্তারা উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের ফিরে আসা দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে এবং জনগণ তাদের ভোটাধিকারের পুনরুদ্ধার প্রত্যাশা করতে পারে। তারা আরও বলেন, প্রবাসে থেকেও তিনি দলের ঐক্য বজায় রেখেছেন এবং তার উপস্থিতি ছাত্রদলসহ সব অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের নতুন উদ্যম দেবে। এসব মন্তব্যে দেখা যায়, দলীয় কাঠামোর মধ্যে তারেকের নেতৃত্বের প্রতি উচ্চ প্রত্যাশা এবং তার স্বদেশে ফিরে আসার মাধ্যমে রাজনৈতিক গতিপথে পরিবর্তনের সম্ভাবনা।
মিছিল ও পথসভা সম্পর্কে কোনো বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না এবং তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। এই পরিস্থিতি মিছিলের রাজনৈতিক প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে, কারণ এটি মূলত বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমর্থন ও সংগঠনের শক্তি প্রদর্শনের একটি মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তারেক রহমানের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করতে পারে। যদি তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, তবে ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ও অতীতের নীতি পুনরায় আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে, তার উপস্থিতি অন্যান্য দলকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনের পূর্বে গঠনমূলক আলোচনার ক্ষেত্রে।
সারসংক্ষেপে, জয়পুরহাটে অনুষ্ঠিত মিছিল ও পথসভা তারেক রহমানের স্বদেশে ফিরে আসার প্রতীকী গুরুত্বকে তুলে ধরেছে এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংহতি ও রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের ইঙ্গিত দিয়েছে। ভবিষ্যতে তার নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা কীভাবে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রভাব ফেলবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।



