ক্রেভেন কটেজে অনুষ্ঠিত ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচে রাউল জিমেনেজ ১২ গজ দূর থেকে নেওয়া পেনাল্টি শট দিয়ে ফুলহ্যামকে গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করেন। নটিংহাম ফরেস্টের গোলরক্ষক জন ভিক্টর বাম দিকে সরার মুহূর্তে জিমেনেজ শটটি বিপরীত কোণে পাঠিয়ে গোলের গন্ধ ছড়িয়ে দেন। এই গোলটি তাকে প্রিমিয়ার লীগে ১০১% রূপান্তর হার (১১টি পেনাল্টি, ১১টি গোল) অর্জনকারী খেলোয়াড়ের তালিকায় যোগ করেছে, যা ইয়ায়া তুরে’র সঙ্গে সমান। তুরের পাশাপাশি ডিমিটার বারবাটভও ৯টি পেনাল্টি থেকে ৯টি গোল করে শীর্ষে ছিলেন, তবে জিমেনেজের রেকর্ড এখন তার চেয়ে উঁচু।
ফুলহ্যামের কোচ মারকো সিলভা জিমেনেজের শীতল স্বভাবের প্রশংসা করে বলেন, “সে পেনাল্টি নেওয়ার সময় একদম শীতল, তার গেমের বুদ্ধি খুবই তীক্ষ্ণ।” সিলভা আরও উল্লেখ করেন, জিমেনেজের সাম্প্রতিক চারটি ঘরোয়া ম্যাচে দুবার গোল করে দলকে জয় এনে দিয়েছে। যদিও সিলভা স্বীকার করেন যে তার দলটি বলের ওপর আত্মবিশ্বাসের অভাব বোধ করছিল, তবু ফলাফলকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখেছেন, দর্শকদের জন্য রোমাঞ্চকর ফুটবল প্রদানের চেয়ে জয়কে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
ফুলহ্যাম এই জয়ের মাধ্যমে নিচের তিনটি দলে থেকে দশ পয়েন্টের ফাঁক তৈরি করেছে, যা তাদের নিরাপদ অবস্থানে রাখে। অন্যদিকে, নটিংহাম ফরেস্টের সীন ডাইচের দল এই ম্যাচে পয়েন্ট বাড়াতে পারল না, ফলে তারা ১৮তম স্থান দখলকারী ওয়েস্ট হ্যামের ওপর পাঁচ পয়েন্টের লিড বজায় রাখতে পারল না। ফরেস্টের আক্রমণাত্মক মনোভাব কমে গিয়েছিল, তাদের পাসিং গড়ে গড়ের নিচে ছিল এবং তারা ফুলহ্যামের কেন্দ্রীয় রক্ষক জোয়াকিম অ্যান্ডারসেনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি।
ম্যাচের মূল মুহূর্তে জিমেনেজের পেনাল্টি শটই ছিল গেমচেঞ্জার। তিনি শট নেওয়ার আগে ধীর গতিতে বলের দিকে এগিয়ে গিয়ে, গোলরক্ষকের চলাচল পর্যবেক্ষণ করেন এবং সঠিক সময়ে শটটি চালান। তার এই শীতলতা এবং নির্ভুলতা তাকে পেনাল্টি ক্ষেত্রে প্রিমিয়ার লীগের শীর্ষে রাখে। সিলভা জিমেনেজের এই পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করে বলেন, “যদিও সে তার সর্বোচ্চ ফর্মে নেই, তবু তার পেনাল্টি নেওয়ার দক্ষতা দলকে বড় সুবিধা দেয়।”
ফুলহ্যামের এই জয় তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, যা দুই ম্যাচের ধারাবাহিক জয় হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। দলের কিছু মূল খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও তারা দৃঢ় রক্ষণাত্মক খেলা এবং জিমেনেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গেমকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। ফরেস্টের দিক থেকে, যদিও তারা ম্যাচে আক্রমণাত্মকভাবে এগোতে চেয়েছিল, তবে তাদের পাসিং গতি এবং আক্রমণাত্মক তীব্রতা যথেষ্ট ছিল না, ফলে তারা ফুলহ্যামের রক্ষণাত্মক কাঠামো ভাঙতে পারেনি।
ম্যাচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফুলহ্যাম তাদের রক্ষণাত্মক লাইনকে দৃঢ়ভাবে বজায় রেখেছে, আর ফরেস্টের গোলের সুযোগ সীমিত ছিল। জিমেনেজের পেনাল্টি শটের সঠিকতা এবং সিলভার কৌশলগত পরিকল্পনা এই ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতে উভয় দলই তাদের পরবর্তী ম্যাচে এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখে উন্নতি করার আশা করা যায়।



