ঢাকায় দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো প্রধান কার্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত ১২ টার পর ঘটিত সমন্বিত হামলার জন্য টেজগাঁও থানা অধিকারী ক্যা শি নিউ মার্মা ৩৫০‑৪০০ অজানা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলাটি রায়াল কোড, স্পেশাল পাওয়ারস অ্যাক্ট, সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্স এবং অ্যান্টি‑টেররিজম অ্যাক্টের ধারায় গৃহীত হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে দাঙ্গা উস্কে দেওয়া, সরকারি কর্মকর্তা বাধা দেওয়া, অবৈধ অনুপ্রবেশ, লুটপাট, ধ্বংসসাধন, ইচ্ছাকৃত অগ্নিকাণ্ড, হুমকি ও প্রমাণ ধ্বংসের পাশাপাশি অনলাইন মাধ্যমে অপরাধের নির্দেশনা প্রদান।
গত বৃহস্পতিবার রাত ১২ঃ২৫ টার দিকে দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো অফিসের সামনে একদল লোক স্থানীয় অস্ত্র, লাঠি ও জ্বালানীয় পদার্থ নিয়ে সমাবেশ করে। সমাবেশের সময় কিছু অনলাইন সক্রিয়কারী সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক বার্তা পোস্ট করে জনসমাগমকে উস্কে দেয়।
প্রায় ১০ মিনিট পরে, অর্থাৎ রাত ১২ঃ৩৫ টায়, দলটি ইস্পাতের গেট ও কাঁচের দরজা জোরে ভেঙে অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়, অফিসের আসবাবপত্র ও ডকুমেন্ট ধ্বংস করা হয় এবং মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে ফার্নিচার ও কাগজপত্রকে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
আক্রমণকারীরা ২০০ টিরও বেশি কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ক্যামেরা, প্রিন্টার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট করে, যার মোট মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা অনুমান করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন লকারে সংরক্ষিত প্রায় পঁয়ত্রিশ লাখ টাকা নগদ অর্থও চুরি হয়।
দ্য ডেইলি স্টারের অপারেশনস প্রধান মিজানুর রহমান এই মামলাটি দায়েরের প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। মামলার বিবরণে উল্লেখ আছে যে, আক্রমণকারীরা ভয় দেখিয়ে সাংবাদিক ও কর্মীদের কয়েক ঘণ্টা ধরে জ্বালাময় ভবনের মধ্যে আটকে রেখেছিল, যা নিরাপত্তা ও মানবিক দিক থেকে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, দাঙ্গা উস্কে দেওয়া, অগ্নিকাণ্ডের উদ্দেশ্যসহ প্রাণহানির সম্ভাবনা, এবং অনলাইন মাধ্যমে অপরাধের সমর্থনকে একসাথে বিবেচনা করে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে, দায়ী ব্যক্তিদের উপর রায়োয়াল কোডের অধীনে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা আরোপিত হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুসারে, তদন্তকর্তারা এখন পর্যন্ত ৩৫০‑৪০০ সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করে তালিকাভুক্ত করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। মামলাটি আদালতে উপস্থাপনের পর পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হবে, যেখানে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বিবৃতি ও ডিজিটাল ট্রেস বিশ্লেষণ করা হবে।
এই ধরনের আক্রমণ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও কর্মীদের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, তাই কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং অনলাইন উস্কানিমূলক বিষয়বস্তুর তত্ত্বাবধান বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।



