সুইন্ডনের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মঙ্গলবার ছয়জনের ওপর যৌন অপরাধের ব্যাপক অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা হয়েছে। ৪৯ বছর বয়সী ফিলিপ ইয়ং এবং তার পাঁচজন সহ-অভিযুক্তকে ১৩ বছরের দীর্ঘ সময়কালে তার প্রাক্তন স্ত্রী জোয়ান ইয়ংের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগগুলোতে ধর্ষণ, মাদকদ্রব্য ব্যবহার করে শিকারকে অচেতন করা, গোপনভাবে দেখার ইচ্ছা এবং শিশুদের অশ্লীল ছবি সংরক্ষণ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
ফিলিপ ইয়ং, যিনি পূর্বে সুইন্ডনে বাস করতেন এবং বর্তমানে এনফিল্ডে বসবাস করছেন, মোট ৫৬টি পৃথক যৌন অপরাধের জন্য দায়ের হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ, শিকারকে অচেতন করার উদ্দেশ্যে কোনো পদার্থ ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তাকে গোপনভাবে দেখার (ভয়োরিজম), শিশুদের অশ্লীল চিত্র সংরক্ষণ এবং চরম ধরণের অশ্লীল চিত্রের মালিকানা রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলো প্রমাণের ভিত্তিতে গঠন করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে পর্যালোচনা হবে।
ফিলিপের প্রাক্তন স্ত্রী, ৪৮ বছর বয়সী জোয়ান ইয়ং, নিজে তার গোপনীয়তা ত্যাগ করে মামলায় নাম প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত পাঁচজন পুরুষকে একই সময়কালে বিভিন্ন যৌন অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই পাঁচজনের নাম ও নির্দিষ্ট অভিযোগগুলো প্রকাশ না করলেও, তারা সকলেই জোয়ান ইয়ংের প্রতি গৃহস্থালি ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দায়ী। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোও ১৩ বছরের সময়কালে ঘটিত বিভিন্ন অপরাধকে অন্তর্ভুক্ত করে।
সুইন্ডন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মঙ্গলবার এই ছয়জনকে উপস্থিত হতে আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিশদ বিবরণ শোনার পর পরবর্তী শোনানিরিখ নির্ধারিত হবে। কোর্টের শোনানি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে এবং সকল পক্ষকে যথাযথ আইনি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ প্রদান করা হবে।
ফিলিপ ইয়ংকে পুলিশ হোয়াইট ব্রিটিশ নাগরিক বলে চিহ্নিত করে জেলখানায় আটক রেখেছে। অন্য পাঁচজনকে জামিনের শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তারা আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত হতে হবে। জামিনের শর্তে তাদের চলাচল সীমাবদ্ধ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উইল্টশায়ার পুলিশ বিভাগের ডিটেকটিভ সুপারিন্টেনডেন্ট জেফ স্মিথ উল্লেখ করেছেন যে, এই অভিযোগগুলো একটি জটিল ও বিস্তৃত তদন্তের ফলাফল এবং মামলাটিকে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, তদন্তের সময় বহু প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ডিজিটাল ডেটা, সাক্ষ্য এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত। এই প্রমাণের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত মোট ৫৬টি অপরাধের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোয়ান ইয়ংকে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা সমর্থন করছেন। তার নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কোনো হুমকি থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ দলটি তার গোপনীয়তা রক্ষা এবং মানসিক পুনর্বাসনের জন্য নিয়মিত পরামর্শ ও সেবা প্রদান করবে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ১৩ বছরের সময়কালে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত। এই মামলায় প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে, আদালতকে যথাযথ শাস্তি নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় সমাজে নিরাপত্তা ও নারীর অধিকার সংরক্ষণে আরও সতর্কতা ও তদারকি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।



