থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া তৃতীয় সপ্তাহের ধারাবাহিক সীমান্ত সংঘাতের পর, পরবর্তী সপ্তাহে পুনরায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার লক্ষ্যে আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তারা মালয়েশিয়ায় একত্রিত হয়ে প্রথম সরাসরি বৈঠক করেন, যেখানে ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তির শর্তাবলী নির্ধারণের কথা হয়।
দুই দেশই জুলাইয়ের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষর করেছিল। তবে, মে মাসে আবার উত্তেজনা বাড়ে এবং লড়াই পুনরায় শুরু হয়, যার ফলে দু’পাশেই দায়িত্বের দোষারোপের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিসাস্ক ফুয়াংকেটকিরা উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের চুক্তি তখনকার সময়ের রাজনৈতিক চাপের ফলে তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছিল। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ফুয়াংকেটকিরা আরও জানান, নতুন কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের আগে দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের ২৪ ডিসেম্বর একটি বৈঠক করতে হবে। এই বৈঠককে চূড়ান্ত চুক্তির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন, বানতে মিয়াংচে প্রদেশে বোমা ফেলা এবং গ্রে চান গ্রামে বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছে। থাইল্যান্ডের মর্নিং নিউজ টেলিভিশন থ্রি একই সময়ে সা কায়েও প্রদেশে গুলিবিনিময় ঘটার তথ্য প্রকাশ করে, যেখানে কম্বোডিয়ার সৈন্যরা ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে গোলা ছুঁড়েছে, ফলে প্রদেশের খোক সুং জেলায় অগ্নিকাণ্ড ও সম্পত্তি ক্ষতি হয়েছে।
এই মাসে সীমান্তে সংঘর্ষে অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছে এবং প্রায় দশ লাখ মানুষ তাদের বাড়ি ছেড়ে স্থানান্তরিত হয়েছে। উভয় পক্ষই পারস্পরিক দায়িত্বের অভিযোগে একে অপরকে অভিযুক্ত করে, যা শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তের এই উত্তেজনা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য একটি সতর্কতা সংকেত। তারা বলেন, যদি দুই দেশ দ্রুত সমঝোতা না করে, তবে এই সংঘাত প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে এবং আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় দেশের কূটনীতিকরা প্রথমবারের মতো সরাসরি মুখোমুখি হয়ে সমস্যার মূল কারণ ও সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনা করেন। যদিও কম্বোডিয়া এখনও থাইল্যান্ডের মন্তব্যের ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য উন্মুক্ততা প্রকাশ করেছে।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে মাঠে বাস্তবিক পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, কোনো চুক্তি যদি বাস্তবিক পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
কম্বোডিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে, তারা থাইল্যান্ডের সামরিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি উত্থাপন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি।
দুই দেশের মধ্যে চলমান এই সংঘাতের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী মধ্যস্থতা সত্ত্বেও, এখনো একটি স্থায়ী সমঝোতা গড়ে তোলার জন্য বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
পরবর্তী সপ্তাহে নির্ধারিত আলোচনায় উভয় পক্ষের মূল চাহিদা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের সমন্বয় ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি সফল হয়, তবে ২৪ ডিসেম্বর নির্ধারিত সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠককে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ধরা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তির ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।



