20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধইকুয়েডোর সৈনিকদের ৩৪ বছর কারাদণ্ড, চার শিশুর নিখোঁজ মামলায়

ইকুয়েডোর সৈনিকদের ৩৪ বছর কারাদণ্ড, চার শিশুর নিখোঁজ মামলায়

গুয়ায়াকিলের চার কিশোরের নিখোঁজের মামলায় ইকুয়েডোর এক আদালত সোমবার ১১ সৈনিককে মোট ৩৪ বছর জেল শাস্তি দিল। এরা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে চার শিশুকে নিপীড়ন করে দূরে ফেলে দিয়েছিল বলে রায় দেওয়া হয়েছে।

শিশুরা শেষবার ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪-এ তাদের পাড়া‑এর কাছের একটি ক্রীড়া মাঠের দিকে হাঁটতে দেখা গিয়েছে। তাদের বয়স ১১ থেকে ১৫ বছর, এবং তারা গৃহহীন গ্যাং‑সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে পুলিশ নজরে আসে।

দশ দিন পর, ৩১ ডিসেম্বর, একটি দূরবর্তী জলাভূমিতে চার কিশোরের দেহ পাওয়া যায়। শিকারের মধ্যে রয়েছে স্টিভেন মেদিনা, নেহেমিয়াস আরবোলেদা এবং ভাইবোন ইস্মাইল ও জোসু আর্রোই। দেহগুলো পোড়ার চিহ্নসহ পাওয়া যায়, যা তাদের নিপীড়নের কঠোরতা প্রকাশ করে।

অভিযুক্ত সৈনিকদের মধ্যে পাঁচজনকে প্রোsecution‑এর সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য দুই বছর ছয় মাসের অতিরিক্ত শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আদালত তাদেরকে মামলার তথ্য সরবরাহে সহায়তা করার স্বীকৃতি দিয়েছে।

সামরিক বাহিনী প্রথমে দাবি করে যে শিশুরা অপরাধী এবং তারা জীবিত অবস্থায় মুক্তি পেয়েছে। তবে তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য থেকে স্পষ্ট হয় যে সৈন্যরা তাদের মারধর, নকল মৃত্যুদণ্ডের অভিনয় এবং নগ্ন অবস্থায় দূরবর্তী, ঝুঁকিপূর্ণ তাউরা অঞ্চলে ছেড়ে দিয়েছে।

সৈন্যদের এই কাজের জন্য হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি, তবে তাদেরকে ‘অবহেলিত’ হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিচারক জোভান্নি সুয়ারেজ রায়ে উল্লেখ করেন যে, দলটি জানতেই শিশুরা বিপদজনক, নির্জন এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষার দল যুক্তি দেয় যে প্রমাণ অপর্যাপ্ত, এবং সৈন্যদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া প্যাট্রোলে পাঠানো হয়েছিল। তারা দাবি করে যে শিশুরা এখনও বেঁচে আছে, যদিও দেহ পাওয়া গেছে।

এই রায়ের পর দেশব্যাপী নিন্দা গর্জে ওঠে। প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোর ‘ফিনিক্স পরিকল্পনা”‑র অধীনে সামরিক বাহিনীকে শহর-শহরে মোতায়েন করা হয়, যা গ্যাং‑হিংসা কমাতে লক্ষ্য ছিল। তবে এই পদক্ষেপের ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বেড়ে যায়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ইকুয়েডোর সামরিক নীতি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করে। তারা জানায়, সামরিককেন্দ্রিক নীতি অপরাধ কমাতে ব্যর্থ হয়ে, জোরপূর্বক নিখোঁজের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। তাদের আমেরিকাস ডিরেক্টর আনা পিকের মন্তব্যে বলা হয়, “এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স বাড়ছে, আর অপরাধ হ্রাস পাচ্ছে না।”

আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সম্ভাবনা রয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলো অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আদালত ভবিষ্যতে অতিরিক্ত শাস্তি বা পুনর্বিবেচনা করতে পারে, বিশেষ করে যদি নতুন প্রমাণ উঠে আসে।

এই মামলাটি ইকুয়েডোর নিরাপত্তা নীতি এবং মানবাধিকার রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার এবং নাগরিক সমাজ উভয়ই এখনো এই ঘটনার পরিণতি এবং ভবিষ্যৎ নীতির দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

১০০/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরাবিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments