যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগের জন্য ট্রাম্প সরকার নতুন আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) আজ জানিয়েছে যে, স্বেচ্ছা প্রত্যাহারের ভাতা পূর্বের এক তৃতীয়াংশে বাড়িয়ে $3,000 করা হয়েছে এবং এই সুবিধা বছরের শেষের মধ্যে আবেদনকারী সকলকে প্রদান করা হবে।
এই ভাতা গ্রহণকারীকে তাদের নিজ দেশ পর্যন্ত বিনামূল্যে বিমান টিকিটও সরবরাহ করা হবে, যা স্বেচ্ছা প্রত্যাহারকে সহজতর করার লক্ষ্য রাখে। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দেশ ত্যাগ করলে এই আর্থিক সহায়তা এবং ফ্লাইট সুবিধা পাওয়া যাবে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের মতে, অবৈধ অভিবাসীদের এই প্রস্তাব গ্রহণ করে স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগ করা উচিত, না হলে সরকার তাদের অনুসরণ করে গ্রেফতার করবে এবং পুনরায় দেশে প্রবেশের কোনো সুযোগ থাকবে না। তিনি এই নীতিকে দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
স্বেচ্ছা প্রত্যাহারকে সহজতর করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন মার্চ মাসে ‘CBP হোম’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে, যা পূর্বে ‘CBP ওয়ান’ নামে পরিচিত ছিল। বায়ডেন সরকার এই অ্যাপটি ব্যবহার করে বৈধ অভিবাসী প্রবেশের প্রক্রিয়া সহজ করত, আর এখন এটি স্বেচ্ছা প্রত্যাহারকে সমর্থন করার জন্য পুনরায় ব্র্যান্ড করা হয়েছে।
DHS জানিয়েছে যে, কোনো অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার, আটক এবং জোরপূর্বক প্রত্যাহার করার মোট গড় খরচ প্রায় $17,000 হয়। এই ব্যয়কে কমাতে এবং আর্থিক দিক থেকে সুবিধা পেতে সরকার স্বেচ্ছা প্রত্যাহারকে উৎসাহিত করছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাপক প্রত্যাহার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, প্রতি বছর এক মিলিয়ন অবৈধ অভিবাসীকে দেশ ত্যাগের লক্ষ্য রাখছেন। তবে ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত মাত্র ৬,২২,০০০ জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা তার মূল লক্ষ্যের তুলনায় কম।
সরকার ২০২৬ সালে আরও কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন বাজেটের মাধ্যমে বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করে হাজারো অতিরিক্ত অভিবাসন এজেন্ট নিয়োগ, নতুন আটক কেন্দ্র স্থাপন এবং বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করে অবৈধ অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ ও প্রত্যাহারকে ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে সব ধরণের কনসুলার ও ভিসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। নতুন কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই সেবাগুলি পুনরায় চালু হবে না, যা স্থানীয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য অতিরিক্ত অসুবিধা সৃষ্টি করছে।
এই নীতি ও পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে। স্বেচ্ছা প্রত্যাহারকে প্রণোদনা দিয়ে সরকার যে লক্ষ্য অর্জন করতে চায়, তা বাস্তবায়নে কতটা সফল হবে, তা পরবর্তী মাসগুলিতে পর্যবেক্ষণ করা হবে।



