শহরের তোপখানা রোডে অবস্থিত উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গত শুক্রবার রাত প্রায় সাড়ে সাতটায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ওই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে অজানা কয়েকজন ব্যক্তি প্রবেশ করে সম্পত্তি নষ্ট করে এবং আগুন জ্বালায়। ঘটনাস্থলে প্রায় তিন হাজার বই, বাদ্যযন্ত্র এবং সংস্থার পঞ্চাশ বছরের পুরনো নথিপত্র ধ্বংস হয়।
আগ্নিকাণ্ডের পরপরই উদীচীর একাংশের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার শাহীবাগ থানা‑এ মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে যে, দশ থেকে পনেরো জন অপরাধী সমন্বিতভাবে এই কাজটি সম্পন্ন করেছে এবং এটি পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই হামলা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ক্ষুন্ন করে অরাজকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
শাহীবাগ থানা‑এর ওসিআই মো. মনিরুজ্জামান জানান, এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং তদন্ত চলমান। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের সংখ্যা ১০‑১৫ জনের মধ্যে হতে পারে এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘দুর্বৃত্ত বেআইনি অনধিকার’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
আগ্নিকাণ্ডের ফলে প্রায় পঞ্চাশ লাখ চব্বিশ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদ নষ্ট হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। তবে জামসেদ আনোয়ার জানান, ঐতিহাসিক নথি ও নিদর্শনগুলোর কোনো আর্থিক মূল্য নেই, তবে বাদ্যযন্ত্র, কম্পিউটার এবং কিছু আসবাবপত্রের আনুমানিক মূল্য তালিকাভুক্ত করে থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পটভূমি হল, সম্প্রতি শ্রীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর শহরে ব্যাপক প্রতিবাদ ও দাঙ্গা চলছিল। তদুপরি, দুইটি স্থানীয় পত্রিকা ও ছায়ানট‑উদীচী প্রকাশনা এই হামলায় ৩১ জন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে নৌটিতে নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো রায় না দিয়ে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে কীভাবে মামলাটি অগ্রসর হবে এবং অভিযুক্তদের বিচার হবে তা এখনো অনিশ্চিত।
উদীচী সংগঠন এই ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্গঠনের জন্য তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ঘটনার পর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ধরণের আক্রমণ রোধ করা যায়।



