লস এঞ্জেলেসে ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’‑এর প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে ৩৯ বছর বয়সী ওনা চ্যাপলিন প্রধান ভিলেন ভ্যারাং হিসেবে উপস্থিত হন। এই ছবিটি জেমস ক্যামেরনের পরিচালিত বিলিয়ন‑ডলারের ফ্র্যাঞ্চাইজের সর্বশেষ অংশ, যেখানে চ্যাপলিনের পারফরম্যান্সকে শিল্পের অন্যতম বড় সুযোগ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
চ্যাপলিনের পারিবারিক পটভূমি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে গভীর; তিনি সিলভেস্টার চ্যাপলিনের নাতি, যার নামই তার জীবনের প্রথম শিকড়। ড্রামা স্কুল শেষ করার পর লন্ডনের গ্লোব থিয়েটারে কাজ শুরু করেন, এরপর টেলিভিশন ও সিনেমার বিভিন্ন প্রকল্পে নাম তুলে নেন।
তার ক্যারিয়ারে ‘গেম অফ থ্রোনস’ এবং ‘ব্ল্যাক মিরর’ মত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সিরিজের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। যদিও এই কাজগুলো তাকে গ্লোবাল দর্শকের কাছে পরিচিত করিয়েছে, তবু ‘অ্যাভাটার’ ফ্র্যাঞ্চাইজের বিশাল স্কেলে তার প্রথম উপস্থিতি এখন পর্যন্ত তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’‑এ চ্যাপলিন ভ্যারাং নামের এক উগ্র নাভি নেতা হিসেবে অভিনয় করেন। ভ্যারাং মাংকওয়ান গোষ্ঠীর প্রধান, যারা আগ্নেয়গিরির গুহায় বসবাস করে এবং তাদের প্রাচীন ভূমি পুনরুদ্ধারের আকাঙ্ক্ষা রাখে। তার চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য হল রাগ ও তীব্রতা, যা তাকে ছবির নায়কদের জন্য সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ করে তুলেছে।
চ্যাপলিনের অভিনয় শৈলী এই চরিত্রে বিশেষভাবে প্রকাশ পায়; তিনি শারীরিকভাবে চঞ্চল এবং আবেগগতভাবে তীব্র, যা পারফরম্যান্স‑ক্যাপচার প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে ওঠে। ক্যামেরা ছাড়া নাচের মতো আন্দোলনগুলোকে ডিজিটালভাবে রেকর্ড করা হয়, ফলে ভ্যারাংয়ের অগ্নি‑সদৃশ উপস্থিতি স্ক্রিনে বাস্তবিকভাবে ফুটে ওঠে।
চিত্রে মাইলস কোয়ারিচ চরিত্রে স্টিফেন ল্যাংও উপস্থিত, যাকে ভ্যারাং কৌশলগতভাবে এবং অপ্রত্যাশিতভাবে রোমান্টিকভাবে সমর্থন করে। এই জুটি পূর্বের শত্রুতাকে নতুন মোড় দেয়, ফলে গল্পে অতিরিক্ত উত্তেজনা যোগ হয়। দুজনের পারস্পরিক ক্রিয়া ভ্যারাংকে নায়কদের জন্য সর্বোচ্চ হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে।
প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে চ্যাপলিনের ম্যানেজার তাকে “শীর্ষে শুরু” করার কথা উল্লেখ করেন, যা শিল্পে তার অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে। একই সময়ে চ্যাপলিনের শাশুড়ি গাড়ির পেছনের সিটে বসে, এই মুহূর্তের বিশালতা অনুভব করেন বলে জানিয়েছেন। এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছবির বৃহৎ পরিসরের সঙ্গে তার সংযোগকে আরও স্পষ্ট করে।
‘অ্যাভাটার’ সিরিজের সাম্প্রতিক বক্স‑অফিস তথ্যও উল্লেখযোগ্য; যুক্তরাষ্ট্রে প্রারম্ভিক সপ্তাহে প্রায় ৮৫‑৯৫ মিলিয়ন ডলার আয় এবং বিশ্বব্যাপী মোট ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্জন করেছে। এই আর্থিক সাফল্য চ্যাপলিনের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, যা তাকে ভবিষ্যতে আরও বড় প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।
একই ছবিতে সিগুরনি উইভারও হিরোয়িনের ভূমিকায় ফিরে আসেন, যা ৩৯ বছর বয়সী চ্যাপলিনের ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। উভয় অভিনেত্রীর পারফরম্যান্স ক্যামেরা প্রযুক্তি ও শারীরিক অভিনয়ের সমন্বয়ে সমৃদ্ধ, যা দর্শকদের জন্য ভিজ্যুয়াল ও আবেগগত দিক থেকে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
চ্যাপলিনের পারিবারিক ঐতিহ্য ও নিজের স্বতন্ত্র পথের মিলন ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’‑এ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তিনি পূর্বের টেলিভিশন কাজ থেকে শিখে, এখন বৃহৎ স্কেলের সায়েন্স‑ফিকশন জগতে নিজের ছাপ রেখে চলেছেন। ভ্যারাং চরিত্রের মাধ্যমে তিনি শক্তি, রাগ ও নেতৃত্বের নতুন দিক উপস্থাপন করেছেন, যা ভবিষ্যতে তার ক্যারিয়ারের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ চ্যাপলিনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যেখানে তিনি পারিবারিক গৌরবকে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৃহৎ স্কেলের চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন শীর্ষে পৌঁছেছেন। তার পারফরম্যান্সের তীব্রতা ও শারীরিক চ্যালেঞ্জ ভবিষ্যতে আরও বড় প্রকল্পের দরজা খুলে দেবে, এবং ভ্যারাং চরিত্রের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের কাছে এক স্মরণীয় প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়ে যাবেন।



