ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী সোমবার পূর্ব জেরুজালেমের সিলওয়ান মহল্লায় চারতলা আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে ফেলেছে, ফলে একশেরও বেশি ফিলিস্তিনি বাসিন্দা গৃহহীন হয়েছে।
ভবনটি ওল্ড সিটির কাছাকাছি অবস্থিত এবং এতে প্রায় এক ডজন অ্যাপার্টমেন্ট ছিল, যেখানে নারী, শিশু ও বয়স্কসহ আনুমানিক একশো মানুষ বাস করতেন।
বুলডোজার ব্যবহার করে নির্মাণ ধ্বংসের কাজ সকালবেলায় শুরু হয়, তখনই বাসিন্দারা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সামগ্রী ছড়িয়ে পড়তে দেখেন। কিছু পরিবার তাদের জিনিসপত্র রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা অবস্থায় সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়।
একজন পাঁচ সন্তানবিশিষ্ট পিতার মতে, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ঘুমন্ত অবস্থায় দরজা ভেঙে প্রবেশ করে এবং বলেছিল যে কেবল কাপড় বদলানো ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়ার সময় দেওয়া হবে। তার সাত সদস্যের পরিবারকে গাড়িতে রাত কাটাতে হয়েছে।
ইসরায়েলি পুলিশ দ্রুতই আশেপাশের সড়কগুলোকে ঘিরে রাখে এবং নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকায় মোতায়েন করে, এমনকি পার্শ্ববর্তী বাড়ির ছাদেও সৈন্যদের উপস্থিতি দেখা যায়।
মানবাধিকার সংস্থা উল্লেখ করেছে যে, এই ভবনটি ব্যক্তিগত ফিলিস্তিনি জমিতে নির্মিত হলেও নির্মাণ অনুমোদন না থাকায় ধ্বংসের তালিকায় ছিল। তারা যুক্তি দেয় যে ইসরায়েলের কঠোর পরিকল্পনা নীতি ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন নির্মাণের অনুমতি পাওয়া কঠিন করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করছেন। একটি ইউরোপীয় বিশ্লেষক বলেন, “পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধ ধ্বংস কাজের ধারাবাহিকতা শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে প্রশ্নবিদ্ধ।”
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দপ্তরও ঘটনাটির প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ইসরায়েলকে মানবিক প্রভাব বিবেচনা করে ভবন ধ্বংসের আগে বিকল্প সমাধান খুঁজতে আহ্বান জানিয়েছে।
ইউএন মানবাধিকার কাউন্সিলের একটি বিবৃতি উল্লেখ করেছে যে, বসতিস্থল ধ্বংসের ফলে সৃষ্ট স্থানচ্যুতি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং তা নিয়ে আলোচনা করার জন্য জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সরকার ধ্বংসের কারণ হিসেবে অনুমোদনহীন নির্মাণকে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে যে ভবনটি আইনগত তালিকায় ছিল। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মতে, এই ধরনের অনুমোদন প্রক্রিয়া প্রায়ই রাজনৈতিক বিবেচনা দ্বারা প্রভাবিত হয়।
অঞ্চলীয় বিশ্লেষকরা পূর্ব জেরুজালেমের এই ধ্বংসকে দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার একটি অংশ হিসেবে দেখছেন, যেখানে বসতিস্থল সম্প্রসারণ এবং ধ্বংসের চক্র উভয়ই সংঘাতের মূল চালিকাশক্তি।
পরবর্তী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি প্রত্যাশিত।
স্থানীয় ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের জন্য তাত্ক্ষণিক সহায়তা ব্যবস্থা এখনও অপ্রতুল, এবং মানবিক সংস্থাগুলি অস্থায়ী শরণার্থী ক্যাম্প স্থাপন ও মৌলিক সরবরাহ প্রদান করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই ধ্বংসের ফলে সিলওয়ান এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, যা ভবিষ্যতে আরও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিবেচনা করা হচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ধ্বংসের বৈধতা যাচাই করা হবে এবং প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ বা পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



