চট্টগ্রামের একটি হোটেলে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ব্যবসায়িক সংলাপ অনুষ্ঠানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী রাজনীতিবিদদের জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারের ক্ষমতা হ্রাসই প্রকৃত গণতন্ত্রের মূল নীতি।
এই বক্তব্যটি চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবসায়ীদের জন্য আয়োজন করা বাণিজ্য সংলাপের প্রধান অতিথি হিসেবে দেওয়া হয়। আমীর খসরু উল্লেখ করেন, যদি বিএনপি শাসনে আসে, তবে জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরে আসবে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি তিনি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের বাস্তবায়নের কথাও বলেন। তিনি দাবি করেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার আছে এবং তা পুনরুদ্ধার করা দরকার।
বিএনপি শাসনে এলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর আরোপিত প্রশাসনিক বাধা দূর করা হবে, ব্যয় কমানো হবে এবং করের বোঝা হ্রাস করা হবে, এ ধরনের পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি তিনি দেন। অতীতের দুর্নীতির ফলে দেশের ক্যাপিটাল মার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা জিডিপির তুলনায় বড় হওয়া উচিত ছিল, এ কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচন কোনোভাবেই পিছিয়ে যাবে না। স্বার্থপর প্রচেষ্টার মাধ্যমে নির্বাচন পেছানোর চেষ্টা করলে জনগণ তা গ্রহণ করবে না, তিনি বলেন।
সংলাপের আয়োজনের দায়িত্ব চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহম্মদ পালন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এসএম ফজলুল হক, নির্বাহী কমিটির সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম এবং সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম সাইফুল আলম।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী ও অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নের জন্য সরকারের নীতি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গণতন্ত্রের সঠিক বাস্তবায়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমীর খসরু এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছিলেন, জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করা উভয়ই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপি নেতৃত্বের এই অবস্থান দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষত, নির্বাচনের সময়সূচি এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন, এটি ভোটারদের কাছে কীভাবে পৌঁছাবে তা দেখা বাকি।
সংলাপের সমাপ্তিতে আমীর খসরু উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে, ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের সঠিক রূপে পৌঁছাতে সকল স্টেকহোল্ডারকে একসাথে কাজ করতে হবে।
এই অনুষ্ঠানটি চট্টগ্রাম ব্যবসা সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত, যেখানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতির সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন সংলাপের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে, এটাই অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যাশা।



