আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসি বি) সোমবার জানিয়েছে যে, আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (এপিএল) এর পরবর্তী সংস্করণ ২০২৬ সালের শেষ ত্রৈমাসিকে অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে বোর্ডের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার এবং অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সময়সূচি বিবেচনা করা হয়েছে। লিগের নতুন সূচি নিশ্চিত করার জন্য এসি বি ইউএইতে ২০ ডিসেম্বর একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এপিএল টি২০ (এপিএলটি২০) এর নতুন লোগো, প্রস্তাবিত সময়সীমা, ম্যাচের স্থান এবং অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়। এসি বি ও তার অংশীদাররা একসাথে লিগের ভিজ্যুয়াল পরিচয় এবং কাঠামো উপস্থাপন করেন, যা ভক্তদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেয়।
এসি বি প্রধান নির্বাহী নাসিব খান উল্লেখ করেন, “২০২৬ সালের শেষ ত্রৈমাসিকে টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্তটি আফগানিস্তানের ব্যস্ত ক্রীড়া সূচি বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে।” তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়া আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপ, এরপর আইপিএল ও পিএসএল, এবং আফগানিস্তানের ভারত, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলো এই সময়ে শেষ হবে।
লিগের সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারিত হয়েছে যাতে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সঙ্গে সংঘর্ষ না হয় এবং একই সঙ্গে ইউএইয়ের আবহাওয়া অনুকূল থাকে। নাসিব খান আরও জানান, “আবহাওয়ার দিক থেকে ইউএইতে শীতকালীন মাসগুলো সবচেয়ে উপযোগী, তাই আমরা সেই সময়ে লিগ চালানোর পরিকল্পনা করছি।” এই বিবেচনা লিগের দর্শকসংখ্যা এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উভয়ই বাড়াতে সহায়ক হবে।
লিগে মোট পাঁচটি দল অংশ নেবে এবং প্রতিটি দল দু’বার করে একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। ডাবল রাউন্ড-রবিন ফরম্যাটের পর প্লে-অফ এবং ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এভাবে লিগের প্রতিটি পর্যায়ে উত্তেজনা বজায় থাকবে এবং দর্শকদের জন্য ধারাবাহিক আকর্ষণ তৈরি হবে।
প্রথম সংস্করণ ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে পাঁচটি দল – বালখ লেজেন্ডস, কাবুল জওয়ান, কন্দহার নাইটস, নগরহর লেপার্ডস এবং পাকতিয়া প্যান্থার্স – অংশগ্রহণ করেছিল। সেই বছরের চ্যাম্পিয়ন বালখ লেজেন্ডস হয়ে ওঠে। এরপর থেকে লিগ পুনরায় চালু করার বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
দ্বিতীয় সংস্করণটি স্থগিত করা হয়েছিল, কারণ এসি বি স্নিক্সার স্পোর্টসের সঙ্গে লিগের অনুমোদন ও বাণিজ্যিক অধিকার চুক্তি বাতিল করে দেয়। বাতিলের মূল কারণ ছিল অধিকার ফি সম্পূর্ণভাবে প্রদান না করা। এই ঘটনার ফলে লিগের পুনরায় সূচনা দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থবির হয়ে যায়।
নাসিব খান জোর দিয়ে বলেন, “এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছি এবং এখন এসি বি প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক দিক থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এখন অধিক স্বচ্ছ এবং কার্যকর। এই পরিবর্তনগুলো ভবিষ্যতে লিগের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করবে।
এপিএল ২০২৬ সংস্করণের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। লোগো ও ব্র্যান্ডিং কাজ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলগুলোকে পুনরায় গঠন করা হবে এবং খেলোয়াড়দের নির্বাচন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। এসি বি নিশ্চিত করেছে যে, লিগের সব দিক—আর্থিক, লজিস্টিক এবং ক্রীড়া—সাবধানে পরিকল্পনা করা হবে, যাতে পূর্বের সমস্যাগুলো পুনরাবৃত্তি না হয়।
লিগের আনুষ্ঠানিক সূচি এবং টিকিট বিক্রির তথ্য শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। ভক্তরা এখন অপেক্ষা করছেন, কীভাবে নতুন লোগো এবং আধুনিক ফরম্যাটের সঙ্গে এপিএল ২০২৬ আফগানিস্তানের ক্রিকেটের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



