মঙ্গলবার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রীনল্যান্ডের জন্য একটি বিশেষ envoy নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। লুইজিয়ানা রাজ্যের গভার্নর জেফ ল্যান্ড্রি এই পদে নিযুক্ত হন, যা গ্রীনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশন হিসেবে চিহ্নিত করে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পেছনে গ্রীনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে জানান, ল্যান্ড্রি গ্রীনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রীনল্যান্ডের অবদানকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
গ্রীনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন এই নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গ্রীনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে এবং তার ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষিত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই envoy এর উপস্থিতি গ্রীনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী লার্স লক্কে রাসমুসেন এই নিয়োগকে “গভীরভাবে বিরক্তিকর” বলে সমালোচনা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে আহ্বান জানান। তিনি টিভি২-তে বলেন, ডেনমার্ক, ফারো দ্বীপপুঞ্জ এবং গ্রীনল্যান্ডের সমন্বয়ে গঠিত রাজ্য হিসেবে তাদের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।
গ্রীনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নিলসেন আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করা যাবে, তবে তা পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হতে হবে। তিনি বলেন, গ্রীনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত গ্রীনল্যান্ডের জনগণের হাতে এবং কোনো বহিরাগত শক্তি তা পরিবর্তন করতে পারবে না।
লুইজিয়ানা গভার্নর ল্যান্ড্রি এক পোস্টে জানান, তিনি গ্রীনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্বে সম্মানিত বোধ করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই দায়িত্ব তার লুইজিয়ানা গভার্নর হিসেবে দায়িত্বকে প্রভাবিত করবে না।
ডেনমার্কের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয় গ্রীনল্যান্ডের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে অগ্রাহ্য করতে পারে না বলে উল্লেখ করে, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠাবে।
ট্রাম্পের গ্রীনল্যান্ডের প্রতি আগ্রহ প্রথমে ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয়, যখন তিনি দ্বীপটির অধিগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। এইবারও তিনি দ্বীপের কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পূর্বে গ্রীনল্যান্ডের ওপর সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাদ দেননি, যা ডেনমার্কের ন্যাটো মিত্র হিসেবে সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ডেনমার্কের সরকার এই ধরনের হুমকিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
গ্রীনল্যান্ডের জনসংখ্যা প্রায় ৫৭,০০০, এবং দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ গ্রীনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও ডেনমার্কের ভূখণ্ডিক অখণ্ডতার ওপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই envoy নিয়োগের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়বে এবং ন্যাটো কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। তবে গ্রীনল্যান্ডের সরকার স্পষ্ট করে বলেছে, তারা কোনো বহিরাগত হস্তক্ষেপ ছাড়া নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
পরবর্তী ধাপে, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সঙ্গে ডেনমার্কের কূটনৈতিক আলোচনা প্রত্যাশিত, যেখানে গ্রীনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্বার্থের সমন্বয় কীভাবে হবে তা নির্ধারিত হবে। এই আলোচনার ফলাফল গ্রীনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



