সিরিয়ার নতুন সরকার ক্যাপটাগন উৎপাদন শিল্পে ব্যাপক দমন চালু করেছে, যা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাশার আল-আসাদ শাসনের অধীনে বিশাল মুনাফা এনে দিয়েছিল। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ সংস্থা (UNODC) সোমবার প্রকাশিত গবেষণা সংক্ষিপ্তসারে জানিয়েছে, আল-আসাদের পতনের এক বছর পর interim প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারায়া ১৫টি শিল্প-স্তরের ল্যাবরেটরি এবং ১৩টি গুদাম বন্ধ করে এই অবৈধ ব্যবসা দমন করার চেষ্টা করছেন।
বাশার আল-আসাদ শাসনামলে সিরিয়া বিশ্বব্যাপী ক্যাপটাগন উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। এই অ্যামফেটামিন‑সদৃশ গাঁজা-সদৃশ গুলিকণা দশক জুড়ে সরকারের কোষাগারে বিলিয়ন ডলার আয় করত, যা নিরাপত্তা বাহিনীর বেতন, অবকাঠামো প্রকল্প এবং শাসকের ব্যক্তিগত সম্পদে ব্যবহার হতো।
UNODC রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ১৫টি বড় আকারের উৎপাদন ল্যাব এবং ১৩টি সংরক্ষণ গুদাম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে ক্যাপটাগন বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে, যা পূর্বে সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলের সরবরাহ শৃঙ্খলে বিশাল প্রভাব ফেলেছে।
ক্যাপটাগন ব্যবসা দীর্ঘ সময় গালফ দেশগুলোতে, বিশেষ করে সৌদি আরবের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এই অবৈধ পণ্যের রপ্তানি সিরিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নজরদারির বাড়তি চাপের একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত পশ্চিমা দেশগুলোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞার দিকে নিয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্বে এই মাদক ব্যবসা থেকে লাভের মূলধারাটি শাসনের নিরাপত্তা কাঠামো, বাণিজ্যিক খাতের উঁচু পর্যায়ের ব্যবসায়ী এবং বাশার আল-আসাদের পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে ভাগ হয়ে থাকত। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরকারী তহবিলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সম্পদও গড়ে উঠত।
বাশারের ভাই মাহের আল-আসাদ, যিনি সেনাবাহিনীর এলিট ফোর্থ ডিভিশনের কমান্ডার হিসেবে কাজ করতেন, লাটাকিয়ার মাধ্যমে শিপমেন্ট রক্ষা করে ক্যাপটাগন বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। তার এই অংশগ্রহণের ফলে সিরিয়ার সীমান্তে মাদক প্রবাহ সহজতর হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ে।
দমনমূলক পদক্ষেপের পরও প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে যে, অঞ্চলে বড় আকারের জব্দের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নির্দেশ করে যে সিরিয়া থেকে উৎপাদিত ক্যাপটাগনের বড় স্টক এখনও বাজারে রয়ে গেছে। এই জব্দগুলো প্রধানত সীমান্ত পারাপার এবং গুদাম থেকে নেওয়া হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে সম্পূর্ণভাবে মাদক সরবরাহ বন্ধ করা এখনো সম্ভব হয়নি।
এছাড়া, ছোট পরিসরের উৎপাদন কার্যক্রম সিরিয়ার অভ্যন্তরে এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও চালু থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই ধরনের গোপন উৎপাদন ল্যাবগুলো প্রায়শই স্থানীয় গোষ্ঠী বা অপরাধী সংগঠনের তত্ত্বাবধানে থাকে, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, সিরিয়ার নতুন সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়িয়ে ক্যাপটাগন ব্যবসা দমন করতে চায়। বর্তমানে গালফ দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তথ্য শেয়ারিং ও যৌথ অভিযান চালু রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বড় জব্দ এবং অপরাধী গ্রুপের বিচারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।
সারসংক্ষেপে, UNODC এর সর্বশেষ গবেষণা সিরিয়ার ক্যাপটাগন শিল্পে সরকারী দমনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যদিও বড় ল্যাব ও গুদাম বন্ধ করা হয়েছে, তবে মাদক সরবরাহের অবশিষ্ট স্টক এবং ছোট পরিসরের উৎপাদন চালু থাকার কারণে সম্পূর্ণ নির্মূলের পথে এখনও দীর্ঘ পথ বাকি। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে এই অবৈধ ব্যবসা শেষ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।



