ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আগামীকাল থেকে দুই দিনব্যাপী ‘বিউপনিবেশায়ন ও মওলানা ভাসানী’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হল উপনিবেশবাদের উত্তরাধিকার এবং মওলানা ভাসানীর দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করা। সম্মেলনটি ২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে শুরু হবে এবং ২৪ ডিসেম্বর বুধবার পর্যন্ত চলবে।
সম্মেলনের আয়োজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস (কারাস) করেছে। কারাসের উদ্যোগে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এই দুই দিনের ইভেন্টের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কারাসের পরিচালক অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত জানাবেন।
সকাল ১০ টায় ড. আশফাক হোসেনের স্বাগত বক্তব্যের পর সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরা উপস্থিত থাকবেন এবং সমাবেশের শুরুর দিকে শুভেচ্ছা জানাবেন। সমাবেশের সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান, যিনি অনুষ্ঠানের মূল দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবেন।
প্রথম দিনের মূল উপস্থাপনা ইউনিভার্সিটি ব্রুনাই দারুসসালাম থেকে সহযোগী অধ্যাপক ড. ইফতেখার ইকবাল করবেন। তিনি উপনিবেশবাদের পরিপ্রেক্ষিতে মওলানা ভাসানীর তত্ত্ব ও কাজের বিশ্লেষণমূলক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এই সেশনটি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।
দুপুর ১২ টায় নাসির আলী মামুনের তত্ত্বে ভিত্তিক একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রদর্শনীতে মওলানা ভাসানীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়কে চিত্রায়িত করা হয়েছে এবং দর্শকদের জন্য ভিজ্যুয়াল রেফারেন্স প্রদান করবে। আলোকচিত্রের মাধ্যমে তার চিন্তাধারার ভিজ্যুয়াল দিকটি তুলে ধরা হবে।
দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ২৪ ডিসেম্বর, মওলানা ভাসানীর বিশ্বদর্শন এবং উপনিবেশবাদের পরিপ্রেক্ষিতে তার ভূমিকা নিয়ে প্যানেল আলোচনা হবে। প্যানেলে অংশগ্রহণ করবেন অধ্যাপক আহমেদ কামাল এবং অধ্যাপক মাহবুবুল্লাহর সহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ। আলোচনার মাধ্যমে ভাসানীর তত্ত্বের সমসাময়িক প্রয়োগ এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা বিশ্লেষণ করা হবে।
একই দিনে কারাসের গবেষক দল ‘ফিরে দেখা ফারাক্কা লংমার্চ’ শীর্ষক বিশেষ পর্যালোচনা অধিবেশন পরিচালনা করবে। এই সেশনে ফারাক্কা লংমার্চের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং তার বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে। অংশগ্রহণকারীরা ঐতিহাসিক নথি ও গবেষণার ভিত্তিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করতে পারবেন।
বিকেল ৪ টায় চলচ্চিত্রকার সৌমিত্র দস্তিদার প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে, যা মওলানা ভাসানীর জীবন ও কাজের গভীর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করবে। প্রামাণ্যচিত্রের পর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে দুই দিনের কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ করা হবে এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।
এই সম্মেলনটি শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং ছাত্রদের জন্য উপনিবেশবাদের সমালোচনা ও মওলানা ভাসানীর দার্শনিক অবদানের উপর নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে। আপনি যদি আপনার গবেষণায় এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে চান, তবে সম্মেলনের সেশন রেকর্ডিং এবং প্রকাশিত পেপারগুলো পর্যালোচনা করে আপনার কাজকে সমৃদ্ধ করতে পারেন।



