20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানঅক্সিয়াল সীমান্টের জোয়ারের অগ্নি ২০২৬ সালে ঘটতে পারে, ২০২৫‑এর পূর্বাভাস ব্যর্থ

অক্সিয়াল সীমান্টের জোয়ারের অগ্নি ২০২৬ সালে ঘটতে পারে, ২০২৫‑এর পূর্বাভাস ব্যর্থ

ওরেগনের উপকূলের কাছাকাছি উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি ডুবে থাকা সীমান্ট, অ্যাক্সিয়াল, ২০২৫ সালের শেষের আগে বিস্ফোরণ ঘটাবে বলে এক বছর আগে বিজ্ঞানীরা দৃঢ় পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তবে পর্যবেক্ষণকৃত তথ্য দেখায় যে ঐ সময়সীমার মধ্যে কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটেনি। এখন নতুন সূচকগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই জোয়ারের অগ্নি ২০২৬ সালে ঘটতে পারে।

অ্যাক্সিয়াল সীমান্ট প্রায় ১,৫০০ মিটার গভীর পানির নিচে অবস্থিত এবং এর ক্যালডারার মধ্যে ‘মাশরুম’ নামের একটি হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট রয়েছে। উচ্চ রেজোলিউশনের ক্যামেরা ও বিভিন্ন সেন্সর এই ভেন্ট এবং আশেপাশের ভূতাত্ত্বিক পরিবেশকে ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করছে। এই সরঞ্জামগুলো ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়, ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন‑ওসেনিক অবজারভেটরি ইনিশিয়েটিভ এবং ক্যালিফোর্নিয়া সি সায়েন্স ফাউন্ডেশনসহ বহু গবেষণা সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত হয়।

বছর আগে গবেষক দলটি জানিয়েছিল যে, যদি ২০২৫ সালের শেষের আগে জোয়ারের ভূগর্ভস্থ চাপ এবং তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে, তবে তা বিস্ফোরণের সংকেত দেবে। এই পূর্বাভাসের ভিত্তি ছিল ভূকম্পন, মাটির বিকৃতি এবং জোয়ারের গ্যাস নির্গমন পর্যবেক্ষণ। পূর্বাভাসের পর থেকে, ক্যামেরা এবং সিসমিক স্টেশনগুলো ধারাবাহিকভাবে ডেটা রেকর্ড করেছে, কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য ভূকম্পন বা তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেখা যায়নি।

২০২৫ সালের শেষের দিকে জোয়ারের কার্যকলাপের হ্রাসের ফলে পূর্বাভাসের সঠিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মাশরুম ভেন্টের আশেপাশে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং গ্যাসের গঠনেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সালফার ডাইঅক্সাইডের নিঃসরণে সামান্য বৃদ্ধি পাওয়া গেছে, যা ভূগর্ভস্থ মাগমার গতি বাড়ার সূচক হতে পারে।

এই সূচকগুলোকে ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা এখন ২০২৬ সালের মধ্যে অগ্নি ঘটার সম্ভাবনা বেশি বলে অনুমান করছেন। মাটির চাপের মাপ এবং তাপীয় প্রবাহের বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, মাগমা ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠে আসছে এবং ক্যালডারার গঠন পরিবর্তন হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জোয়ারের পৃষ্ঠে চাপের সমতা ভেঙে গেলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

পর্যবেক্ষণ সরঞ্জামগুলো শুধুমাত্র তাপমাত্রা নয়, সিসমিক তরঙ্গ, পানির রসায়ন এবং ভেন্টের ভৌত গঠনও রেকর্ড করে। সাম্প্রতিক ডেটা দেখায় যে সিসমিক তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পানির রসায়নে হালকা অম্লতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মাগমার গ্যাসের মুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এসব পরিবর্তন একত্রে জোয়ারের অগ্নি সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।

অ্যাক্সিয়াল সীমান্টের অগ্নি সরাসরি উপকূলীয় নগর বা মানব বসতির ওপর প্রভাব ফেলবে না, তবে বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট পানির কলা ও তাপীয় প্রবাহ নিকটবর্তী সামুদ্রিক পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। মাছের প্রজনন এলাকা, সমুদ্রের তাপমাত্রা এবং পুষ্টি চক্রে প্রভাব পড়তে পারে, যা স্থানীয় মৎস্যজীবী ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, বিস্ফোরণের সময় উৎপন্ন সুনামি ও জোয়ারের ধুলো সামুদ্রিক নৌচালনা ও তেল ট্যাঙ্কারেও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায় জোর দিয়ে বলছে যে, পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে এবং নতুন ডেটা সংগ্রহের মাধ্যমে অগ্নি পূর্বাভাসের নির্ভুলতা বাড়ানো হবে। বর্তমান পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা জরুরি অবস্থায় দ্রুত সতর্কতা জারি করতে সহায়তা করবে।

পাঠকরা এই তথ্য জানার পর উদ্বেগের পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেন। সমুদ্রের নিচের অগ্নি যদিও সরাসরি মানব জীবনে হুমকি নয়, তবে এর সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। ভবিষ্যতে যদি অগ্নি ঘটে, তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা দ্রুত সতর্কতা জারি করবে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আপনার মতামত কী? আপনি কি মনে করেন, সমুদ্রের নিচের এই ধরনের ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে? আপনার মন্তব্য শেয়ার করুন এবং বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকুন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments