কৃষ্ণাপ্পা গৌতম, ৩৭ বছর বয়সী অফ‑স্পিনার ও অলরাউন্ডার, ২২ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরুর এম. চিন্নস্বামী স্টেডিয়ামে পরিবার ও ক্রিকেট কর্মকর্তাদের সামনে তার প্রতিযোগিতামূলক ক্যারিয়ার শেষ করার সিদ্ধান্ত জানালেন। তিনি প্রথম‑শ্রেণী ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে, ভক্ত ও সহকর্মীদের কাছে বিদায়ের শুভেচ্ছা জানালেন।
গৌতমের ক্রিকেট যাত্রা মোট ১৪ বছর ধরে চলেছিল, যার মধ্যে তিনি বিভিন্ন ফরম্যাটে ৩৯৫টি উইকেট এবং ২,৭৮৫ রানের সংগ্রহ করেছেন। ভারতের জন্য একক ওডিআই ম্যাচে অংশ নেওয়া সত্ত্বেও, তার প্রধান অবদান কর্নাটকের রাজ্য দল ও দেশের প্রথম‑শ্রেণী ক্রিকেটে দেখা যায়।
অবসর ঘোষণার অনুষ্ঠানটি মিডিয়ার জন্য বিশেষভাবে আয়োজন করা হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন গৌতমের পরিবার, কর্নাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (KSCA) নতুন সভাপতি ভেঙ্কটেশ প্রসাদ, সচিব সন্তোষ মেনন এবং উপ-সভাপতি সুজিথ সোমসুন্দর, পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
গৌতমের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম‑শ্রেণী ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়া তার জন্য গর্বের বিষয়, কারণ তিনি দেশ ও কর্নাটকের রঙে খেলতে পেরে আনন্দিত ছিলেন। তিনি বললেন, এই মাঠে প্রতিটি মুহূর্ত তার জন্য গৌরবের উৎস এবং তিনি সবসময় দেশের সেবা করার চেষ্টা করেছেন।
তিনি নিজের ক্যারিয়ারকে একাধিকবার পুনরুজ্জীবিত করার উদাহরণ দিয়ে বললেন, যে কোনো সময় তিনি ফিরে এসে আবার দলে স্থান পেতে পারতেন, তবে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ না রেখে নিজেকে এগিয়ে নেওয়া ন্যায়সঙ্গত হবে না, তাই তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
গৌতম স্পষ্ট করে বললেন, অন্য কোনো রাজ্যে স্থানান্তরিত হওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি তা কখনোই গম্ভীরভাবে বিবেচনা করেননি। কর্নাটকের গর্বিত সন্তান হিসেবে তার পরিচয়ই সর্বোচ্চ, এবং তিনি চান তার স্মৃতি কেবলই এই রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকুক।
এম. চিন্নস্বামী স্টেডিয়াম তার জন্য বিশেষ অর্থ বহন করে। তিনি শৈশবে এই স্টেডিয়ামকে দর্শক হিসেবে দেখেছিলেন, পরে বলবয় হিসেবে কাজ করতেন এবং শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় পিচে নিজের নাম গড়ে তোলেন। এই ঐতিহাসিক মঞ্চে তার স্বপ্নের সূচনা এবং পরিণতি ঘটেছে, যা তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
গৌতম তার যাত্রা বর্ণনা করে বলেন, প্রথমে তিনি স্টেডিয়ামের সীমানা পার হয়ে দর্শক হিসেবে প্রবেশ করতেন, পরে বলবয় হিসেবে মাঠের কাজ শিখতেন, এবং অবশেষে তিনি সেই একই পিচে বল ছুঁড়ে দলের জয় নিশ্চিত করতেন। এই ধারাবাহিকতা তার জন্য এক ধরনের পূর্ণতা এনে দিয়েছে।
অবসর ঘোষণার শেষে তিনি বেসিক্রিকেট বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (BCCI) এবং কর্নাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ভূমিকা স্বীকার করে, তাদের সমর্থন ও সুযোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি কর্নাটকের রঙে ট্রফি জয় করার গৌরবকে সর্বোচ্চ সম্মান হিসেবে উল্লেখ করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মডেল হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চান।
পরিবারের সঙ্গে ছবিতে গৌতমের মুখে সন্তোষের ছাপ স্পষ্ট, যা তার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়কে আরও মানবিক ও হৃদয়গ্রাহী করে তুলেছে। তার অবসর কেবল একটি শেষ নয়, বরং নতুন দায়িত্বের সূচনা, যেখানে তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের পরামর্শদাতা ও মেন্টর হিসেবে অবদান রাখতে পারেন।
কৃষ্ণাপ্পা গৌতমের এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যেখানে এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশের ও রাজ্যের গৌরবের জন্য লড়াই করা একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় তার দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন, তবে তার অর্জিত সাফল্য ও নৈতিকতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।



