ব্রাজিলের সুপারস্টার ফোরোয়ার্ড নেইমারকে আজ বেলো হরিজন্টের একটি ক্লিনিকে বাম হাঁটুর আর্থ্রোস্কোপি অপারেশন করা হয়েছে। গত মাসের শেষের দিকে প্রকাশিত মেনিসকাসের আঘাতের পর থেকে তিনি এক মাসেরও বেশি সময় ব্যথা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে কাটিয়েছেন।
আঘাতের পর থেকে নেইমার ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে তার দায়িত্বপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে এবং দলকে নিম্নগামী থেকে রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করা প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অপারেশনটি আর্থ্রোস্কোপি পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ছোট কাট দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মেনিসকাসের অংশ সরিয়ে বা মেরামত করা হয়েছে। এই পদ্ধতি দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং কম আঘাতের জন্য পরিচিত।
অপারেশনটি ব্রাজিলের জাতীয় দল ও আতলেটিকো মিনেইরোর অভিজ্ঞ সার্জন রদ্রিগো লাসমার পরিচালনা করেছেন। পুরো প্রক্রিয়াটি ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে, যা ক্লাব ও খেলোয়াড়ের স্বাস্থ্যের প্রতি সংস্থার যত্নের ইঙ্গিত দেয়।
চিকিৎসা দল জানিয়েছে, অপারেশনের পর সম্পূর্ণ সুস্থ হতে সর্বোচ্চ এক মাস সময় লাগতে পারে। এই সময়সীমা মধ্যে শারীরিক থেরাপি, পুনর্বাসন ও নিয়মিত ফিজিক্যাল চেকআপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নেইমার বর্তমানে সান্তোসের সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, যা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। ক্লাবের ব্যবস্থাপনা এখনও তার ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃঢ় নয় এবং চুক্তি নবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
চিকিৎসা দল ও ক্লাবের অনুমান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে নেইমার আবার মাঠে ফিরে দৌড়াতে সক্ষম হবে। তবে তা সম্পূর্ণ ফিটনেসের ওপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিতে।
নেইমারের দৃষ্টি এখন ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে কেন্দ্রীভূত। তিনি শেষবার জাতীয় দলের জার্সিতে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলেছিলেন, যেখানে একই মেনিসকাসের আঘাতের পর থেকে তার উপস্থিতি সীমিত ছিল।
ব্রাজিলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, বিশ্বকাপের জন্য নেইমারকে শতভাগ ফিট এবং নিয়মিত ম্যাচে অংশগ্রহণ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, কোনো আঘাতের কারণে খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সে বাধা না আসা উচিত।
অপারেশনের পর নেইমার আত্মবিশ্বাসে কোনো হ্রাস দেখা যায়নি। সম্প্রতি তিনি একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ব্রাজিলকে ‘অসম্ভবকে সম্ভব’ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি যোগ করেছেন, যদি জয় না হয় তবে জুলাই মাসে (বিশ্বকাপের পর) তার ওপর প্রশ্ন তোলা হবে।
নেইমার তার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু দিকও শেয়ার করেছেন; তিনি তার বান্ধবী ব্রুনা বিয়ানকার্দি সঙ্গে একটি কনসার্টে গিয়েছিলেন এবং সেখানে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার এই প্রকাশনা ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
একটি অপ্রত্যাশিত তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে যে, লিওনেল মেসির শিরোপা জয়ী মাঠের ঘাসের টুকরা বর্তমানে ৯০ হাজার রিয়াল দামে বিক্রি হচ্ছে। যদিও এটি নেইমারের সরাসরি বিষয় নয়, তবে ব্রাজিলীয় ফুটবলের সাম্প্রতিক বাজারের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
সারসংক্ষেপে, নেইমার এখন আর্থ্রোস্কোপি অপারেশনের পর পুনরুদ্ধারের পথে এবং তার চুক্তি, ক্লাবের ভবিষ্যৎ ও আন্তর্জাতিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন দিকের সমন্বয় ঘটছে। তার ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের ওপর নজর রেখে, ব্রাজিলের ভক্তরা ২০২৬ বিশ্বকাপে তার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষা করছে।



