দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল ও কলেজে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির অনিয়মের অভিযোগে রাশেদ খান মেননসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্ত দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
রাশেদ খান মেনন, যিনি পূর্বে ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন মন্ত্রী পদে ছিলেন, পাশাপাশি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি হিসেবে পরিচিত। তিনি স্কুলের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি ছিলেন, যেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অনিয়মের অভিযোগে বলা হচ্ছে যে, স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের পছন্দের ভিত্তিতে প্রক্রিয়া বদলানো হয়েছে। এই ধরনের কাজের ফলে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দুদক তদন্ত শুরু করেছে।
প্রথম মামলায় মেননসহ ১৩ জন শিক্ষক এবং অতিরিক্ত ২০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মোট ৩৪ জনকে এই মামলায় দায়ী করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দ্বিতীয় মামলায় তিনজন ব্যক্তিকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর তাদের সঙ্গে ৩৭ জন অন্য ব্যক্তিকে যুক্ত করা হয়েছে। এই মামলায় মোট ৪০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, উভয় মামলার অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপ করা হবে।
মামলাগুলি এখন আদালতে দাখিলের প্রস্তুতিতে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে মামলার শোনার তারিখ নির্ধারিত হলে তা জনসাধারণের জানাতে হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, যদি অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে তারা দণ্ড, জরিমানা এবং পদত্যাগের আদেশের মুখোমুখি হতে পারেন। এছাড়া, অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
দুদক এই ধরনের দুর্নীতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে নির্দেশ দেওয়া হবে।
এই মামলাগুলি দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রের নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতে অনুরূপ অভিযোগ এড়াতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
দুদকের এই পদক্ষেপের পর, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে এবং তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।



