সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলা উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে জানালেন, সরকার হাদি হত্যার পর ঝুঁকিতে থাকা ২০ জনের জন্য গার্ড (গানম্যান) ব্যবস্থা করেছে। এতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার দুইটি প্রধান দৈনিকের সম্পাদকও অন্তর্ভুক্ত, যাদের অফিসে গত সপ্তাহে হামলার পর ডিএমপি ১৭ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছিল।
আততায়ীর হাতে গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার মারা যান। হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার এবং ছায়ানটের অফিসে আক্রমণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা হয়।
চৌধুরী উল্লেখ করেন, হাদি হত্যার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদকে দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে মামলার মোটিভ ও তদন্তের কিছু দিক গোপনীয়তার কারণে এখনো প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, হাদি হত্যাকারীকে বৈধ পথে আনা না হলে অবৈধ পথে গমন করা হতে পারে, তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করা কঠিন।
হাদি হত্যার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে ৫০ জনের ‘হিট লিস্ট’ গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে চৌধুরী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য ইতিমধ্যে গার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং তালিকায় থাকা অনেকেরই গার্ডের প্রয়োজন নেই। তিনি যোগ করেন, ডিএমপি, এনএসআই ও এসবিএসের সমন্বয়ে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে গার্ড বিতরণ করা হচ্ছে।
গার্ড পাওয়া ব্যক্তিরা সবই রাজনীতিবিদ নয়, এ বিষয়ে তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে বললেন, গার্ডের সঙ্গে চললে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। গার্ডের প্রয়োজনীয়তা ও প্রত্যাখ্যানের বিষয়েও তিনি উল্লেখ করেন, কিছু ব্যক্তি গার্ড গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
হাদি হত্যার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে চৌধুরী জানান। তিনি আশ্বাস দেন, হাদি হত্যার মূল দায়ীকে দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়ে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের রক্ষা করা হবে।
এই নিরাপত্তা পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার হাদি হত্যার পর উদ্ভূত অশান্তি ও হুমকির মোকাবিলা করতে চায়, পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চায়। ভবিষ্যতে হাদি হত্যার মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের শাস্তি দেওয়া হবে, এটাই সরকারের অঙ্গীকার।



