জেমস ক্যামেরনের তৃতীয় অ্যাভাটার চলচ্চিত্র, ‘ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বক্স অফিসে উদ্বোধনী সপ্তাহে শীর্ষে বসেছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে মুক্তি পাওয়া এই ছবি প্রথম সপ্তাহে প্রায় ৮৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা পূর্বের ‘দ্য ওয়ে অফ দ্য ওয়াটার’ (২০২২) এর ১৩৪ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় কম।
বক্স অফিসের এই প্রাথমিক সাফল্য সত্ত্বেও, ফ্র্যাঞ্চাইজির দীর্ঘমেয়াদী টিকিয়ে রাখার ক্ষমতা নিয়ে বিশ্লেষকরা আশাবাদী। পূর্বের দুইটি ছবি – ২০০৯ সালের ‘অ্যাভাটার’ এবং ২০২২ সালের ‘দ্য ওয়ে অফ দ্য ওয়াটার’ – ধারাবাহিকভাবে সাত সপ্তাহ পর্যন্ত শীর্ষে ছিল, এবং এই প্রবণতা ‘ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ এরও ভবিষ্যতে বজায় থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র‑কানাডার পাশাপাশি, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে ছবিটি প্রায় ৯ মিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছে। বিশ্বব্যাপী মোট সংগ্রহ প্রায় ৩৪৫ মিলিয়ন ডলার, যা ‘দ্য ওয়ে অফ দ্য ওয়াটার’ এর ৪৪১ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় কিছুটা কম। তবু, আন্তর্জাতিক বাজারে এখনও উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
চিত্রে জো স্যালডানা নায়িক নেয়তিরি এবং স্যাম ওয়ার্থিংটন জেক সুলি চরিত্রে ফিরে এসেছে। প্যান্ডোরা গ্রহে তাদের পরিবারকে হুমকি দেওয়া নতুন শত্রুর মুখোমুখি হয়ে তারা আবারও যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। গল্পের মূল দিকটি পরিবার রক্ষা এবং নতুন শত্রুর সঙ্গে মোকাবিলা করা, যা পূর্বের দুই ছবির থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সমালোচকদের মতামত মিশ্রিত হয়েছে। কিছু সমালোচক ভিজ্যুয়াল দিককে প্রশংসা করে, অন্যরা গল্পের গভীরতা ও নতুনত্বের অভাব উল্লেখ করেছে। তবে, বেশিরভাগই ছবির প্রযুক্তিগত দিককে উচ্চ প্রশংসা করেছে, বিশেষ করে ফটো-রিয়ালিস্টিক দৃশ্য এবং বিশাল স্কেলের ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট।
একজন বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, অ্যাভাটার সিরিজের সাফল্য শুধুমাত্র উদ্বোধনী আয় নয়, বরং মুক্তির পরের সময়ে কীভাবে দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখে তা গুরুত্বপূর্ণ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ‘ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ এর দীর্ঘমেয়াদী পারফরম্যান্স নজর রাখার মতো।
সমালোচকদের মধ্যে একজন চারের মধ্যে চার তারকা দিয়ে ছবিটিকে “অসাধারণ সিনেমা” বলে প্রশংসা করেছেন, যদিও তিনি উল্লেখ করেছেন যে সিরিজের সামগ্রিক কাহিনীতে বড় পরিবর্তন আশা করা উচিত নয়। অন্য একজন সমালোচক একই রেটিং দিয়ে ছবিটিকে “দর্শনীয় চমক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা দর্শকদের ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতার জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
বৈশ্বিক বক্স অফিসের তুলনা দেখায়, ‘ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ এখনও ‘দ্য ওয়ে অফ দ্য ওয়াটার’ এর আয়ের পিছনে রয়েছে, তবে এটি ক্যামেরনের ফ্র্যাঞ্চাইজির দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার প্রমাণ। ভবিষ্যতে ছবির আয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন দর্শক গোষ্ঠীর আগ্রহের কারণে।
চিত্রের সঙ্গীত, ভিজ্যুয়াল ডিজাইন এবং প্যান্ডোরার জগৎ পুনর্নির্মাণে ব্যবহৃত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে, যা ভবিষ্যৎ সিক্যুয়েল ও অন্যান্য বড় স্কেল প্রোডাকশনে প্রভাব ফেলবে।
বিনোদন জগতে ‘অ্যাভাটার’ সিরিজের দীর্ঘায়ু একটি বিরল উদাহরণ, যেখানে প্রতিটি নতুন অংশই বড় বাজেট এবং উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে আসে। ‘ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ এর উদ্বোধনী সাফল্য এই ধারাকে অব্যাহত রাখে, যদিও সমালোচকদের কিছুটা সংযত মন্তব্য রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ছবিটি ভিজ্যুয়াল দিক থেকে শক্তিশালী, তবে গল্পের গভীরতা ও নতুনত্বে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দর্শকরা এখনো প্যান্ডোরার নতুন অভিযানে আকৃষ্ট, এবং পরবর্তী সপ্তাহে বক্স অফিসের প্রবণতা কীভাবে পরিবর্তিত হয় তা নজরে থাকবে।
এই পর্যায়ে, চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্স এবং দর্শকের প্রতিক্রিয়া দুটোই ফ্র্যাঞ্চাইজির পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



