সোমবার সকালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এবং দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সমন্বয়ে অধীন-১৮ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ এর বিভাগীয় পর্যায়ের সূচনা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি দিনাজপুরের গোরে, শহীদ বড়ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। টুর্নামেন্টের লক্ষ্য তরুণ প্রতিভাদের প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চ প্রদান এবং রঙপুর বিভাগের চারটি জেলার দলকে একত্রিত করা।
এই বিভাগীয় পর্যায়ে রঙপুর বিভাগের আটটি জেলায় থেকে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও নীলফামারী জেলার দলগুলো অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি দলই নিজ নিজ জেলায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী ম্যাচের মাধ্যমে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এখন তারা দিনাজপুরের মাটিতে একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি দিনাজপুর গোরের শহীদ বড়ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিত্বকারী কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সূচনার আগে জাতীয় পতাকার সম্মানসূচক উত্তোলন এবং সঙ্গীত পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি উদ্বোধনী ভাষণে মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে সততা ও ধৈর্যের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, খেলায় জয়-পরাজয় দুটোই স্বাভাবিক, তবে সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ মনোভাব বজায় রাখা উচিত।
অনুষ্ঠানে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. আসাদুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর রেহাতুল ইসলাম খোকা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দিনাজপুর জেলা ক্রিকেট কোচ মো. আনোয়ারুল ইসলাম সুমি, নীলফামারী জেলা ক্রিকেট কোচ জামিউল আলম বাবলু, পঞ্চগড় জেলা ক্রিকেট কোচ কাজী জাহিদ, এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আরিফুল আলম পল্লব অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এছাড়া দিনাজপুরের umpire association এর সভাপতি প্রশান্ত কুমার সরকার অরুণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়রাও উপস্থিত ছিলেন।
বক্তৃতা শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলাপচারিতা করেন। তারা তরুণ ক্রীড়াবিদদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং টুর্নামেন্টের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এই সংলাপের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়ে এবং টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত হয়।
উদ্বোধনী ম্যাচে নীলফামারী ও পঞ্চগড় জেলার দলগুলো মুখোমুখি হয়। ম্যাচের সময় উম্পায়ার দায়িত্ব পালন করেন কামরুজ্জামান তালুকদার মাসুম ও সৈয়দ ইসলাম হোসেন, আর স্কোরার হিসেবে কাজ করেন জাকির হোসেন মুন্না। উভয় দলই প্রথম ইনিংসে সতর্কতা বজায় রেখে খেলায় প্রবেশ করে, যা দর্শকদের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে।
প্রথম ম্যাচের পর টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী পরবর্তী দুই দিন ধারাবাহিকভাবে অন্যান্য জেলার দলগুলোকে একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। প্রতিটি ম্যাচের ফলাফল টুর্নামেন্টের অগ্রগতি নির্ধারণ করবে এবং শীর্ষস্থানীয় দলগুলোকে চূড়ান্ত ফাইনালে পৌঁছানোর সুযোগ দেবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য একটি সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা এবং সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রথম ম্যাচের সফল সমাপ্তি টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপের জন্য ইতিবাচক সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রত্যাশা যে, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে নতুন প্রতিভা উন্মোচিত হবে এবং দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।



