রস্টন চেজের পশ্চিম ইন্ডিজ টেস্ট সফর নিউ জিল্যান্ডে শেষ হয়েছে। মাউন্ট মাউয়ানুয়াইয়ে তৃতীয় টেস্টে দু’ই ইনিংসে মাত্র সাত রান সংগ্রহের পর, ক্যাপ্টেনের পুরো বছরের গড় ১৩.৮১ হয়ে আটটি টেস্টে তার পারফরম্যান্সের চূড়ান্ত চিত্র তুলে ধরেছে।
তৃতীয় টেস্টে চেজ দু’বারেরই সুযোগে মোট সাত রানই করতে পেরেছেন, যার ফলে তিনি সিরিজের শেষ ম্যাচে মাত্র পাঁচ রান করে স্লিপে ক্যাচ হয়ে আউট হন। এই পারফরম্যান্সের ফলে তার গড় ১৩.৮১, যা একটি ক্যালেন্ডার বছরে ক্যাপ্টেনদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন, শুধুমাত্র ২০০৩ সালে বাংলাদেশে খালেদ মাহমুদ সুজনের ১১.৮২ গড়ের পর।
চেজের এই গড় নাসের হুসেইনের (২০০০ সালে ১৫.০০) এবং মোহাম্মদ আশরাফুলের (২০০৮ সালে ১৬.০০) রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে, যা তার ব্যক্তিগত সংগ্রামের তীব্রতা প্রকাশ করে। বছরের আটটি টেস্টে তিনি মোট ৪২ রান সংগ্রহ করেছেন, গড় মাত্র সাত, যা টেস্ট সিরিজে ছয় বা তার বেশি বার আউট হওয়া ক্যাপ্টেনদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে।
নিউ জিল্যান্ডের দল পুরো সিরিজে আধিপত্য বজায় রেখেছে। তৃতীয় টেস্টে তারা পশ্চিম ইন্ডিজকে ৩২৩ রানের পার্থক্যে পরাজিত করে ২-০ সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে। ডেভন কনওয়ে ও টম ল্যাথাম প্রত্যেক ইনিংসে শতকী পার করেছেন, দুজনেরই দু’টি শতকী মিলিয়ে দলকে বিশাল স্কোরে পৌঁছে দিয়েছে, ফলে পশ্চিম ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইন‑আপ ছায়ার মতোই পিছিয়ে পড়ে।
চেজের ব্যক্তিগত সংগ্রাম সিরিজের সামগ্রিক দৃশ্যের সঙ্গে তীব্র বৈপরীত্য গড়ে তুলেছে। তিনটি টেস্টে তিনি মোট ৪২ রানই করতে পেরেছেন, আর তার শেষ আউট হওয়া ক্যাচটি স্লিপে পাঁচ রান নিয়ে ঘটেছে, যখন নিউ জিল্যান্ডের বোলাররা আবারও কঠোর গতি বজায় রেখে পশ্চিম ইন্ডিজের ব্যাটিংকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
সিরিজের শেষে চেজ নিজে স্বীকার করেছেন যে এই টেস্টগুলো তার জন্য খুবই কঠিন ছিল এবং তার মানদণ্ডের নিচে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি মাঠে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারিনি, যদিও শব্দে ও উৎসাহে দলের সঙ্গে আছি, তবে ফলাফল নিয়ে আমি নিজেকে এবং দলকে হতাশ করেছি।” এই স্বীকারোক্তি তার আত্মবিশ্লেষণকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
সারসংক্ষেপে, রস্টন চেজের নিউ জিল্যান্ড সফর তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং পর্যায়ে পরিণত হয়েছে। গড় ১৩.৮১ এবং সিরিজে মোট ৪২ রান তার ব্যাটিংয়ে বড় ঘাটতি নির্দেশ করে, আর নিউ জিল্যান্ডের ডেভন কনওয়ে ও টম ল্যাথামের ধারাবাহিক শতকী পারফরম্যান্সের বিপরীতে তার সংগ্রাম স্পষ্ট। সিরিজের পরবর্তী সময়ে পশ্চিম ইন্ডিজের টেস্ট সূচি এখনও নির্ধারিত নয়, তবে চেজের জন্য এই পরিসংখ্যানগুলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করবে।



