27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমুন্সীগঞ্জে কবুতর চুরির অভিযোগে শিক্ষার্থীকে মারধর, এক অভিযুক্ত গ্রেফতার

মুন্সীগঞ্জে কবুতর চুরির অভিযোগে শিক্ষার্থীকে মারধর, এক অভিযুক্ত গ্রেফতার

মুন্সীগঞ্জের দেওসার এলাকায় ১৩ ডিসেম্বর রাত প্রায় আটটায় একটি শিশু কবুতর অনুসন্ধানে গিয়ে হিংসাত্মক আক্রমণের শিকার হয়। নীরব (বয়স অল্প) তার হারিয়ে যাওয়া কবুতর খুঁজতে বাবুর বাড়িতে প্রবেশ করে, যেখানে ৪০ বছর বয়সী বাবু এবং ২৫ বছর বয়সী আরাফাত তাকে তীব্র verbal abuse দিয়ে আক্রমণ করে।

আক্রমণকারীরা নীরবকে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পুরোনো আক্রোশের জোরে গালি-গালাজের সঙ্গে সঙ্গে কিল-ঘুষি, লাথি এবং লোহার ডান্ডা ব্যবহার করে মারধর করে। এক পর্যায়ে তারা শিশুটির বুকের ওপর পা দিয়ে চাপ দেয় এবং মাথা দেয়ালে আঘাত করে, ফলে নীরবের শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে।

নীরবের কাঁপা কণ্ঠে চিৎকার শোনার পর আশেপাশের প্রতিবেশীরা ঘটনাটির খবর নিয়ে দ্রুত থানা ও নিকটস্থ বাড়িতে দৌড়ে যায়। নীরবের পিতা নাজিম শেখ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, তার সন্তানকে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং আক্রমণকারীরা তাকে হুমকি দিয়ে থামাতে চায়।

নাজিমের জোরালো হস্তক্ষেপে শিশুটিকে অবিলম্বে মুক্ত করা হয় এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নীরবের শ্বাসপ্রশ্বাসে অস্থায়ী ব্যাঘাত এবং শারীরিক আঘাতের ফলে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

১৪ ডিসেম্বর সকালে, একই দুজন অভিযুক্ত নাজিমের বাড়িতে ফিরে আবার হুমকি জানায়। তারা নাজিমকে জানায়, যদি তিনি শিশুর ওপর মামলা করেন তবে তাকে হত্যা করে দেহ গোপন করার হুমকি দেয়া হবে। এই হুমকি নাজিমের পরিবারকে আতঙ্কিত করে এবং ঘটনাটির আইনি দিকটি তীব্রতর করে।

মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারইন্টেনডেন্ট মো. মেনহাজুল আলম ঘটনাটির তদন্তে তৎপরতা প্রকাশ করে। তিনি জানিয়েছেন, হিংসা ও হুমকির ভিত্তিতে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অপর অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের মতে, আক্রমণের সময় নীরব ও তার পিতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে এবং তদন্তের আওতায় সব প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শারীরিক হিংসা, শিশু নির্যাতন এবং হুমকি প্রয়োগের অভিযোগ দায়ের করা হবে।

আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, শিশু নির্যাতন অপরাধের শাস্তি কঠোর এবং হুমকি দিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখার প্রচেষ্টা অতিরিক্ত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে, অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

মুন্সীগঞ্জে কবুতর পালন একটি সাধারণ শখ, তবে এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা যায় যে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধে হিংসা ও নির্যাতন কতটা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। স্থানীয় সমাজে এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একত্রে কাজ করে এই মামলাটির দ্রুত সমাধান ও অপরাধীর যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নাজিম ও নীরবের পরিবারকে শোক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা রয়েছে।

এই ঘটনার পর, মুন্সীগঞ্জ থানায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে এবং স্থানীয় নাগরিকদের হিংসা রোধে সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments